Loading Now

বন্ধ হবে না পাম্প, ব্যাংক খুললে সংকট কেটে যাওয়ার আশা!

অনলাইন ডেক্স ।।

বন্ধ হবে না পাম্প, ব্যাংক খুললে সংকট কেটে যাওয়ার আশা!
অনলাইন ডেক্স ।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দেশে গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই জ্বালানি তেলের সংকট চলছে। তবে ঈদের ছুটিতে ব্যাংক বন্ধ থাকায় পাম্পগুলোতে তেলের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি নিরাপত্তা শঙ্কায় পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে। তবে সংগঠনটি জানিয়েছে, স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আগামীকাল মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে ব্যাংকগুলো খুলবে। এতে সংকট অনেকটা কেটে যাবে বলে আশা করছেন মালিকরা।

সোমবার (২৩ মার্চ) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস্ ও বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল জানান, যে পরিমাণ চাহিদা তার তিন ভাগের একভাগও ডিপো থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে না। যেখানে তেল আছে সেখানে খোলা, যেখানে নেই সেখানে বন্ধ। তবে স্থায়ীভাবে পাম্প বন্ধ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক এই সংকটের কারণ উল্লেখ করে বলেন, ব্যাংক বন্ধ থাকায় মালিকরা পে অর্ডার করতে পারেননি, সে কারণে তেল তোলা যায়নি। এ কারণে পাম্পগুলোতে তেল সংকট দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ব্যাংক খুললে আশা করা যায় বুধবার থেকে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ডিজেলের কোনো সংকট নেই। তবে কয়েক দিন ধরে পাম্পগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। এতে মূলত বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এজন্যই ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে বিভিন্ন পাম্পে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালক কর্তৃক ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের মারধরের ঘটনায় সতর্কবার্তা দিয়ে পেট্রোল পাম্প মালিকদের চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। একইসঙ্গে দেশের সব জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারকে চিঠিটি পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২৩ মার্চ) সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল ডিপোসমূহ থেকে আমাদের অস্বাভাবিক চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না বা আপাতত তা সরবরাহ করতেও পারবে না। অন্যদিকে মোটরসাইকেল ও সাধারণ ভোক্তাদের ফিলিং স্টেশনে উপচে পড়া ভিড় ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। একইসাথে বিভিন্ন জায়গায় সাধারণ ভোক্তা ও মোটরসাইকেল চালক কর্তৃক ফিলিং স্টেশনের স্টাফদের মারধরসহ ফিলিং স্টেশন ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এবং যা প্রতিনিয়ত ঘটেই চলেছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ফিলিং স্টেশন চালু রাখতে হবে।

আরও বলা হয়, অন্যথায় কারও আদেশের অপেক্ষায় না থেকে ফিলিং স্টেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজের নিরাপত্তা নিজেকেই নিয়ে চলতে হবে। এমতাবস্থায় পাম্পের সকল কর্মচারীদের নিরাপত্তা দিয়ে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন যাতে কোনোভাবে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে।

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ‍পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে। এই পরিস্থিতি ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়। অনেক ক্রেতা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জ্বালানি কিনতে শুরু করলে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে গত ৬ মার্চ থেকে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে সীমা বেঁধে দেয় সরকার।

বিষয়টি নিয়ে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রবল আপত্তি জানালে ঈদ সামনে রেখে গত ১৪ মার্চ পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল বিক্রিতে চালু থাকা রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে ঈদের পরদিন থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাম্পে তেল না পাওয়ার অভিযোগ আসতে থাকে। সোমবার তা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে।

জ্বালানি তেল নিয়ে জনমনে শঙ্কা দেখা দেয় আরও একটি কারণে। সেটা হচ্ছে, রোববার রাতে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেইজে নিরাপত্তার কারণে সারাদেশের পাম্পগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কার কথা বলা হয়।

সেখানে বলা হয়, ‘সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর অবস্থা খুবই করুণ, কারণ তারা অয়েল কোম্পনিগুলো থেকে প্রতিদিন যে তেল পাচ্ছে তা দিয়ে বর্তমানে ক্রেতাদের যে চাহিদা, সেটা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এখন বাস্তবতাটা এমন যে, দেশে যে কোটি কোটি মোটর সাইকেল চালক বা ব্যবহারকারী আছেন, তারা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে ক্লান্ত, বিরক্ত এবং তিক্ত হয়ে পড়ছেন। একই সাথে পেট্রোল পাম্পগুলোর তেল প্রদানকারী নজলম্যান, যারা এই বিরক্ত ক্রেতাদের সাথে কথা কাটাকাটি, গণ্ডগোল করতে করতে আর পেরে উঠছে না।’

পোস্টে আরও বলা হয়, ‘আসলে এভাবে বিরামহীন ডিউটি করার অভ্যাসও তাদের নাই। সব মিলিয়ে অবস্থা এখন এমনই হয়ে পড়েছে, যেকোনো সময় সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলো নিরাপত্তার এবং তেল সরবরাহ না পাওয়ার কারণে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

তবে সোমবার দুপুরে মালিক পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়, পাম্পগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তাছাড়া ছুটি শেষে ব্যাংক খোলার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED