মাঝনদীতে পুলিশের নৌযান ঘেরাও, হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই!
মুলাদী প্রতিনিধি ।।
বরিশালে পুলিশের কাছ থেকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেওয়া সেই বাচ্চু খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে মুলাদী উপজেলার মৃধারহাট-ভেদুরিয়া খেয়াঘাট এলাকায় জয়ন্তী নদী পার হওয়ার প্রাক্কালে পুলিশের নৌযান থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এই ঘটনায় চাউর হয়ে গেলে পুলিশ চাপের মুখে পড়ে এবং পালিয়ে যাওয়া আসামি বাচ্চুকে বাগে আনতে শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ এই অভিযানে সফলতা পায়, গ্রেপ্তার করা হয় আলোচিত বাচ্চু খানকে।
পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মুলাদীতে জনৈক সালাম মুন্সির বাড়িতে শনিবার সকালে হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই হামলার খবর পেয়ে মুলাদী থানার পরিদর্শক (ওসি/তদন্ত) মো. মমিন উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এবং সেখান থেকে বাচ্চু খানকে আটক করতেও সক্ষম হয় পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে, বাচ্চু খানকে নিয়ে পুলিশ জয়ন্ত নদী পার হচ্ছিল, তখন তাদের ট্রলারটিকে চারদিক থেকে থেকে অসংখ্য মানুষ নদীর মাঝেই ঘিরে ধরেন। এবং একপর্যায়ে তারা জোরপূর্বক পুলিশের কাছ থেকে বাচ্চুকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নেয়। এই ছিনতাইয়ে বিশালাকায় অন্তত চারটি ট্রলারযোগে শতাধিক লোক অংশ নেয়।
পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় চাউর হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীটির ভেতরে কানাঘুষা হয়। এবং ছিনিয়ে নেওয়া বাচ্চুকে অতিসত্ত্বর গ্রেপ্তার করাসহ ছিনতাইয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করতে বরিশাল জেলা পুলিশের উচ্চমহল থেকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলশ্রুতিতে এক ধরনের চাপে পড়ে যায় মুলাদী থানা পুলিশ, বিশেষ করে যাদের কাছ থেকে আসামি পালিয়ে যায়, তারা ছিলেন চাকরি হারানোর আতঙ্কে।
ওই অভিযানে অংশ নেওয়া এসআই পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শনিবার সকালে মাঝনদীতে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্বে অবহেলা হিসেবে নিয়েছিলেন। এবং তাদের তরফ থেকে পালিয়ে যাওয়া বাচ্চুকে ফের গ্রেপ্তারে একদিন সময় বেধে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যেই মুলাদী থানা পুলিশ শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়, যা হাফ ছেড়ে বাঁচার ন্যায়।
মুলাদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরাফাত জাহান চৌধুরী শনিবার রাতে স্থানীয় চরকালেখান গ্রামের একটি বাসা থেকে বাচ্চুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন খানের ছেলে বাচ্চুকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু তাকে থানায় নিয়ে আসার আগেই পথে মাঝনদীতে পুলিশের ট্রলার থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রাতে বাচ্চুকে ফের গ্রেপ্তারের পরপরই সালাম মুন্সির বাসায় হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট-অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি মামলা হয়। সেই মামলায় বাচ্চুসহ ৩৬ জনের নাম উল্লেখ করে ৪৫ জনের বিরুদ্ধে সালাম মুন্সির স্ত্রী রাশিদা বেগম বাদী হয়ে মামলা করেন। রোববার তাকে আদালতে পাঠালে বিচারক কারাগারে পাঠিয়ে দেন।
এদিকে পুলিশ মামলার বাকি অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করাসহ মাঝনদীতে বাচ্চুকে ছিনতাইয়ে জড়িতদের শনাক্ত করতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন। এবং জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, দুটি ঘটনায় মুলাদী থানা পুলিশকে শক্ত পদক্ষেপ রাখতে বলা হয়েছে, যা উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষক করছিলেন। শনিবার রাতে খবর পাওয়া যায়, ছিনিয়ে নেওয়া বাচ্চুকে মুলাদী পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এবং পরবর্তীতে দুটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।’


Post Comment