Loading Now

বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ১১৫ শিশু হাসপাতালে

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বরিশাল বিভাগে নতুন করে হাম উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের শরীরে রুবিওনা শনাক্ত হয়। এই রোগে আক্রান্ত হয়ে বরিশাল বিভাগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর রয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র বলছে, বছরের শুরুর দিকেই রুবিওলার উপসর্গ নিয়ে বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোয় সীমিতসংখ্যক শিশু আসতে থাকলেও মার্চে তা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পায় এবং সঙ্গে প্রাণহানিও ঘটে। এ পর্যন্ত বিভাগে রুবিওনার উপসর্গ নিয়ে ৩৮৫ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৬৬ জন শনাক্ত হয়। মার্চে অধিকাংশ শিশু হাসপাতালে আসে এবং তাদের শরীরেও রুবিওলা শনাক্ত হয়।

সূত্রটি জানায়, গত বুধবার সকাল আটটা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল আটটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোয় ১১৫ শিশু রুবিওনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়। এ নিয়ে বর্তমানে বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোয় ২১৫ শিশু চিকিৎসাধীন আছেন।

তবে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে সর্বদক্ষিণের জেলা বরগুনায়। চলতি বছর হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৮৫ শিশুর মধ্যে বরগুনা জেলার ৯৮ শিশু রয়েছে। হাম শনাক্ত হওয়া ৬৬ শিশুর মধ্যে ২৬ শিশুই এই জেলার।

সূত্রগুলো জানায়, এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১১৬ শিশু উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হলেও একজনেরও হাম শনাক্ত হয়নি। বর্তমানে এই হাসপাতালে ভর্তি আছে ৫৪ শিশু। বরিশাল শহরের ৭ জন, বরিশাল জেলায় ১৮, পটুয়াখালীতে ৪, ভোলায় ৪, পিরোজপুরে ১, বরগুনায় ২৬ এবং ঝালকাঠিতে ৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত এক সপ্তাহে এত শিশু হাসপাতালে আসছে যে হাসপাতালগুলোয় স্থান দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে এক শয্যায় তিন থেকে চারজন, আবার কোথাও মেঝেতে শয্যা পাততে হচ্ছে।

অবশ্য শয্যা সংকটের এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন না বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাসপাতালগুলোয় শিশুরা যথাযথ চিকিৎসাসেবা যেন পায়, তা নিশ্চিত করতে আমরা সাধ্যমতো চেষ্টা করছি। তবে হাম যেহেতু সংক্রামক, সেক্ষেত্রে সচেতনতা, বিশেষ করে উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিশুকে আইসোলেশনে রাখতে হবে। এবং যেসব শিশুদের পুষ্টির ঘাটতি আছে, তাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে, এর বিকল্প নেই।’

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED