Loading Now

বরিশালে ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বরিশালে যেন বিদ্যুৎ নেই, আছে শুধু লোডশেডিংয়ের দুঃস্বপ্ন। দিন-রাত মিলিয়ে ৩০ মিনিট থেকে ৪৫ মিনিট পর পর বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে পুরো নগরজীবন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎহীনতায় নাকাল সাধারণ মানুষ, আর রাত নামলেই বাড়ছে ভোগান্তির মাত্রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ,দিনে ১০ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না,যা শুধু অসুবিধা নয়, বরং এক ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। শিক্ষার্থী পড়তে পারছে না,চাকরিজীবীরা কাজ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন,আর ব্যবসায়ীরা গুনছেন লোকসানের হিসাব।

বিদ্যুৎ না থাকায় থমকে যাচ্ছে পানির সরবরাহ, দুর্বল হয়ে পড়ছে জীবনের মৌলিক সেবাগুলোই যেন একে একে হারিয়ে যাচ্ছে।অনেক এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র পানির সংকট, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

ক্ষুব্ধ জনতা বলছে,এই গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া থাকা মানে অসহনীয় যন্ত্রণা। দিন তো দূরের কথা, রাতেও একটুও স্বস্তি নেই।অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুধু কার্যক্রমই ব্যাহত করছে না,এটা সরাসরি তাদের আয়-রোজগারে আঘাত হানছে।বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠছে,দেশের অন্য অঞ্চলে যেখানে পরিস্থিতি তুলনামূলক সহনীয়, সেখানে বরিশাল কেন সবচেয়ে বেশি ভুগছে?এমন প্রেক্ষাপটে অনেকের মুখে শোনা যাচ্ছে ভিন্ন অভিযোগও,এটা কি শুধুই সংকট, নাকি এর আড়ালে আছে কোনো পরিকল্পিত অব্যবস্থাপনা
?
নগরীর পলাশপুর সাবস্টেশনের আওতায় থাকা ৬টি ফিডারে বুধবার দুপুরে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ পায় তারা। এই সাবস্টেশনের অধীনেই চলে নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র বাজার রোড, চকবাজার ও সদর রোড। অধিকাংশ ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরগুলোর অবস্থানও এর অধীনে। গির্জামহল্লা এলাকার ব্যবসায়ী বেলায়েত জানান, ‘সকাল ১০টায় দোকান খোলার পর থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে ৪ বার বিদ্যুৎ গেছে। প্রতিবার ১ ঘণ্টা করে বন্ধ ছিল। মাঝে একবার দেড় ঘণ্টা। ওদিকে আবার সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ করতে হবে দোকান। এভাবে চললে ব্যবসা কী করে টিকিয়ে রাখব আমরা?

কলাডেমা সাবস্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ হয় নগরীর একাংশ ও আশপাশের কয়েকটি উপজেলায়। স্টেশনটি নিয়ন্ত্রণ করে পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। বুধবার বিকালে এরই স্টেশনের আওতাধীন ফিডারগুলোতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা ৯২ মেগাওয়াট তখন জাতীয় গ্রিড থেকে তাদের দেওয়া হয় ৫২ মেগাওয়াট। বরিশাল নগরীর কাশিপুর, বিসিক শিল্প এলাকা এবং ভাটিখানা এলাকায় বিদ্যুৎ দেওয়া হয় এই সাবস্টেশন থেকে। পাশাপাশি বাবুগঞ্জ, মুলাদী, হিজলাসহ বেশ কয়েকটি উপজেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করে তারা। এ সাবস্টেশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মোবাইল ফোনে গ্রাহকদের গালাগাল শুনতে শুনতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। সরবরাহের যা পরিস্থিতি তাতে একসঙ্গে অনেকগুলো ফিডার বন্ধ রাখতে হয়। টানা এক ঘণ্টার বেশি সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হয় না। নির্দেশনা আছে শহরাঞ্চলে বেশি সরবরাহ দিতে। যে কারণে উপজেলা ও গ্রামগুলোতে টানা দুই-আড়াই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। সরবরাহ যদি না থাকে তো বিদ্যুৎ দেব কোথা থেকে?’

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED