Loading Now

বরিশাল স্কাউটের অনিয়মের তদন্ত শুরু, সাক্ষ্য গ্রহণ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বাংলাদেশ স্কাউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনিয়ম, অর্থ তছরুপ আর নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল) বরিশাল কার্যালয়ে গিয়ে অভিযোগকারী দুজনের সাক্ষ গ্রহণ করেছেন তাঁরা। এ ছাড়া ক্ষুব্ধ আরও তিন-চারজনের মৌখিক মন্তব্য নিয়েছে তদন্ত টিম।

জানা গেছে, সকাল ১০টায় নগরের রূপাতলীর স্কাউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ে যান কমিটির আহ্বায়ক সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবদুর রবসহ তিন সদস্য। এ সময় তাঁরা বাংলাদেশ স্কাউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অভিযুক্ত কমিশনার দেবাশীষ হালদার, সম্পাদক ফারুক আলম ও কোষাধ্যক্ষ এস এম জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলেন।

পরে অভিযোগকারী সাবেক ট্রেজারার রুহুল আমিন, লিডার ট্রেইনার ও প্রধান শিক্ষক কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নির লিখিত বক্তব্য নেন। এ ছাড়া আরও কয়েকজন ট্রেইনার স্কাউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনিয়মসহ নানা অভিযোগ জানান তদন্ত কমিটির কাছে।

শনিবার দুপুর ১২টায় সাক্ষ্য দেওয়া স্কাউটের সাবেক কোষাধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিন বলেন, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অ্যাডহক কমিটির সদস্য ও আর্থিক তছরুপ করা অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে পদ পাবেন না। অথচ মার্চে গঠিত কমিটিতে পদ দেওয়া হয়। এমনকি টেন্ডার ছাড়াই ২৫ লাখ টাকা খরচ করে নিজস্ব লোক দিয়ে স্টল করা হয়েছে। তিনি তদন্ত কমিটির কাছে এসব বিষয় তুলে ধরেছেন।

সাক্ষ্য দেওয়া লিডার ট্রেইনার ও প্রধান শিক্ষক কাজী ফাহিমা আক্তার মুন্নি বলেন, ‘আমরা অভিযোগ তুলে ধরেছি। কিন্তু বর্তমান কমিটি কিছু ভুয়া কাগজ তৈরি করে অভিযোগ খণ্ডনে তৎপর ছিল। এমনকি প্রধান অভিযুক্ত পরিচালক সাইফুল ইসলামের সাক্ষ্যই নেওয়া হয়নি। আমরা ন্যায়বিচার না পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও সরকারি ফজলুল হক কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. আবদুর রব জনান, তিনি তদন্ত শুরু করেছেন। দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ স্কাউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি এখানে নেই। তাঁকে প্রধান কার্যালয়ে সংযুক্ত করায় তাঁর মতামত এখনো নেওয়া যায়নি। অন্য অভিযোগকারীদের মতামত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রমাণ সাপেক্ষে তাঁদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে বাংলাদেশ স্কাউট বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের অনিয়ম, অর্থ তছরুপ আর নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গত সোমবার তদন্ত কমিটি করেন স্কাউটের আঞ্চলিক কার্যালয়ের নির্বাহী কমিটির সভাপতি ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান। এদিকে নারী কেলেঙ্কারি ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক সাইফুল ইসলামকে সরিয়ে প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এক বছর ধরে অর্থ তছরুপ আর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছেন স্কাউটের বরিশাল আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। গঠনতন্ত্রবহির্ভূত পকেট আঞ্চলিক নির্বাহী কমিটি তৈরি করে যেমন ইচ্ছা তেমন পরিচালিত হচ্ছিল প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া কার্যালয়ের পরিচালকের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ রয়েছে।

 

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED