আলু ও পেয়াজের বাজার এখনও গরম
বাজারে স্বস্তি ফেরাতে বেশ কিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটর কারনে আলু ও পেঁয়াজের বাজার চড়া। লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে চলেছে অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম। এমনকি আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করার পরও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চাল, পেঁয়াজ ও আলুর বাজার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে আলুর বাজার। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে, যা গত মাসে ৫৫-৬০ টাকা ছিল। ১১০-১২০ টাকার দেশি পেঁয়াজের দাম উঠেছে ১৪০-১৫০ টাকায়। তবে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কেনা যাচ্ছে ১২০ টাকার মধ্যে।
গত সেপ্টেম্বরে আলুর আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ এবং ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে আমদানি উন্মুক্ত করে দেয় সরকার।
এরপরও আলুর দাম না কমে উল্টো বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাদের মধ্যে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করে দাম এতটা বেড়ে যাওয়ায় বাজারে বা পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানের বিক্রেতাদের সঙ্গে ক্রেতাদের বচসা শুরু হয়েছে।
বাজার রোডের বাসিন্দা আরাফাত ইসলাম বলেন, “দুই দিন আগে এক কেজি আলু কিনলাম ৬৫ টাকায়। আজকে দাম বাড়লে সর্বোচ্চ ২-৫ টাকা বাড়তে পারে। এক লাফে ১০-১৫ টাকা বাড়লে মানুষ যাবে কোথায়।”
ক্রেতাদের একেবারে জিম্মি করে ফেলেছে বিক্রেতারা- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “দাম বাড়ার ক্ষেত্রে বিক্রেতাদেরও দোষ আছে। ক্রেতারা যেমন দাম বাড়লে অনেক কথা বলে। বিক্রেতারাও যদি এ নিয়ে পাইকারদের সঙ্গে দর কষাকষি করতো, তাহলে দাম কিছুটা কমতো। বিক্রেতারা মনে করেন, দাম বাড়লে তার তো দিতে হচ্ছে না। সব গিয়ে পড়বে ক্রেতার ঘাড়ে।”
বাজারে আলু ও পেঁয়াজের কোনও সঙ্কট না থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার বরিশালের বিভিন্ন বাজারে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আলু, পেঁয়াজের এই অস্বাভাবিক দামকে খুব অস্বস্তিদায়ক বলে মনে করছেন। একই অবস্থা পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও। কিন্তু দুটি পণ্য এতটাই প্রয়োজনীয় যে বাজারে এলে কিনতেই হয়। বিকল্প কিছু নেই।’
তারা আরও বলেন, ‘মাসে পরিবারের যদি পাঁচ কেজি আলু আর পাঁচ কেজি পেঁয়াজ লাগে- এ জন্যই ব্যয় করতে হবে এক হাজার টাকা। এটা কি স্বাভাবিক কথা!’
এই দুই পণ্যের দামের বিষয়ে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলু-পেঁয়াজের মৌসুম এখন শেষের দিকে। প্রতি বছর এ সময়ে দাম বাড়ে। তবে এ বছর শুরু থেকে দাম চড়া। এরপর এখন বেড়ে আরও বাজার অস্থিতিশীল হয়েছে।
তাছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে বোতলজাত সয়াবিনের দাম না বাড়লেও খোলা তেলের দাম বেড়েছে। বাজারে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৭০ থেকে ১৭১ টাকায় উঠেছে। যেখানে বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৬৭ থেকে ১৭২ টাকা।
এছাড়া প্রতি লিটার খোলা পাম তেল ১৬২ থেকে ১৬৩ টাকা ও সুপার পাম তেল ১৬৪ থেকে ১৬৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কম গত সপ্তাহ থেকে। এখন প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা ২০০ থেকে ২১০ টাকা উঠেছিল। সোনালি মুরগির দাম ৩২০-৩৩০ টাকা প্রতিকেজি। এছাড়া বাজারে প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিমের দাম ১৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বাজারে সবজির দাম অনেকটা কমেছে গত মাসের তুলনায়। এরমধ্যে ঢ্যাঁড়স, পটোল, ঝিঙা, চিচিঙা ৮০-৯০ টাকায় নেমে এসেছে। এছাড়া বেগুন, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ১০০-১২০ টাকায় ও পেঁপে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অপরদিকে, ফুলকপি ১০০ টাকা এবং লাউ ৬০-১০০ টাকা আকার ভেদে। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
Post Comment