নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
দিন দিন অনিরাপদ ও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে বরিশালের আবাসিক হোটেলগুলো। এর নেপথ্যের কারণ— হোটেল মালিক-ম্যানেজার ও কর্মচারী। আবাসিক হোটেলগুলোতে মাদক সেবন, দেহব্যবসা থেকে শুরু করে খুন-খারাপি সহ এহেন কোনো অপরাধ নেই, যা সংগঠিত হচ্ছে না। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ-তরুণীরাও এখন পার্ক ছেড়ে উঠছে আবাসিক হোটেলে। আর এসবের সুযোগও করে দিচ্ছে হোটেল কর্তৃপক্ষই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশিরভাগ হোটেলগুলো ঘণ্টা চুক্তিতে রুম ভাড়া দিয়ে উচ্চমূল্য পাচ্ছে । প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা থাকলেও আবাসিক হোটেলগুলোতে আগত বোর্ডারদের তথ্য নথিভুক্ত করা হয় না রেজিস্ট্রারে। এর ফলে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা।
জানাযায়, নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার দায়ে প্রায়ই নারী-পুরুষকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। তবু হোটেলগুলোতে থামছে না অসামাজিক কার্যকলাপ। এমনকি আবাসিক হোটেলগুলোতে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরার থাকার কথা থাকলেও হাতে গোনা ২/৩ টি হোটেল ছাড়া আর কোন হোটেলই সিসি ক্যামেরা নেই। ক্যামেরার অভাবে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করছে, যা একটি উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বর্তমান সময়। আর সিসি ক্যামেরা না থাকার কারনে
পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারছেনা।
প্রশাসনের অসাধু কতিপয় কর্তাব্যক্তি ও সাংবাদিক নামধারী বিশেষ মহলকে ম্যানেজ করেই চলছে এ ধরণের কর্মজগ্গ। তাই প্রশাসনের অভিযানের সময় এসব হোটেলের মালিকরা থাকে সম্পূর্ণ নিরাপদ। এদের বিরুদ্ধে নেয়া হয় না কোন আইনি ব্যবস্থা। সুত্র জানায়, বরিশাল শহর এলাকায় অবস্থিত সবগুলো হোটেলে বিট মানি সিস্টেম করেছে কোতোয়ালি থানা। অভিযোগ রয়েছে প্রতিদিনের বিট সঠিক সময়ে থানায় না পৌছালে ২/১ দিনের মধ্যে সেখানে চলে অভিযান। একই সাথে প্রশাসনের নজরদারির অভাবে বেড়ে গেছে এসকল হোটেলে মাদক সেবনের কার্যক্রম।দিনের বেলা বেশিরভাগ হোটেলে গিয়ে দেখা যায়, স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ পেশাজীবি মানুষেরা হোটেল রুম ভাড়া নিয়ে সময় কাটায় পতিতাদের সাথে।এছাড়াও নগরীর প্রথম শ্রেনীর হোটেলগুলোতে নজর দিলে মিলবে আরও ভয়ংকর চিত্র,সে হোটেলগুলোতে ছাত্র ছাত্রীদের অবাধ বিচরন না হলেও বরিশালের বেশ কিছু নামধারী অনলাইন পেজের মাধ্যমে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কর্পোরেট ব্যক্তিরা এখানে হোটেলরুম ভাড়া নিয়ে অবস্থান করে।আর বরিশালের ঐ সকল অনলাইন পেজের এডমিন রমনীরা তাদের সাথে সাক্ষাতের নামে একান্তে সময় কাটায়।
অভিযোগ রয়েছে, বয়ফেন্ড-গার্লফ্রেন্ডদেরকে নাম-ঠিকানা এন্ট্রি ছাড়াও রুম ভাড়া দেয়া হয় এবং ব্লাক মেইলের মাধ্যমে আদায় করা হয় টাকা। শুধু অনৈতিক কর্মকান্ড নয়, এসব হোটেলগুলোতে বসে মাদকের আসর। এদের বেশিরভাগই নিরাপদে ইয়াবা সেবনের জন্য হোটেলের রুম ঘন্টা চুক্তিতে ভাড়া নেয়।
সূত্র মতে, গত বছর সদর রোডের হোটেল শামস থেকে এক পুলিশ সদস্যের লাস উদ্ধার করা হয়। আবাসিক হোটেল স্বাধীন পার্ক থেকে এক মাছ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নগরীর পোর্ট রোডের সি প্যালেস থেকে এক ফল ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নগরীর ফলপট্টি এলাকার ‘হোটেল পার্ক’ থেকে আব্দুল হাকিম হাওলাদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নগরীর একটি আবাসীক হোটেল থেকে এক তরুনীর লাশ উদ্ধার কর হয়েছিল। সর্বশেষ গত ১০ মে বরিশাল নগরীর ফলপট্টি এলাকায় হোটেল নসীব থেকে একজন যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, এছাড়াও বরিশালের বেশ কয়েকটি হোটেল থেকে একাধিক লাশ উদ্ধার করা হয়। এসব ঘটনার সঠিক প্রমান না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়। ২/১ হত্যা মামলা দায়ের করা হলেও সিসি ক্যামেরার ফুটেজ না থাকায় তা অন্ধকারে ঢাকা পরছে।
পুলিশ বলছে, আবাসিক হোটেলের বোর্ডারদের নাম, ঠিকানা, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করতে নির্দেশনা দেয়া আছে। অপরাধ সংঘটনের পর পালিয়ে গেলে অপরাধীকে শনাক্ত করতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও বোর্ডারদের ছবিও তুলে রাখার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।
মোবাইল ফোন নম্বর সঠিক কি-না তা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করে নিতে বলা হয়। পূরণ করা তথ্য ফরমের ফটোকপি প্রতিদিন স্থানীয় থানায় পাঠানোর নির্দেশও দেয়া হয়। কিন্তু ওই নির্দেশনা মানছেন না হোটেল মালিকরা।
এ বিষয়ে বরিশাল মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার এমদাদ হোসেন বলেন, হোটেলগুলোতে অপরাধ ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়টি এখন ওপেন সিক্রেট। তাই আমরা সবসময় যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রেখেছি এবং এসকল হোটেল গুলো আমাদের নজরদারীতে রয়েছে আমরা সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাবো। হোটেলে অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান আছে এবং থাকবে।
















