মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন
Logo

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার!

/ ২ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আগে অনুমোদন পাওয়া ২৭৮টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ করা সুগন্ধি চালের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে।

সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সংশোধিত ব্যবস্থার আওতায় বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মাঝারি ও ক্ষুদ্র রপ্তানিকারকরাও নতুন করে নির্ধারিত পরিমাণের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি এবং দেশে রপ্তানি আয়ের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

শর্ত অনুযায়ী, রপ্তানিকারকদের রপ্তানি নীতি ২০২৪-২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে। জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।

ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের জন্য আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করতে হবে। কোনো রপ্তানিকারকই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় সুগন্ধি চালের ন্যূনতম এফওবি (ফ্রি অন বোর্ড) রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

রপ্তানি অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য করা হয়েছে। সাব-কন্ট্রাক্টিং বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না। জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।

এছাড়া রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে রপ্তানিকারকদের পিআরসি দাখিল করতে হবে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে মোট ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দিয়েছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ৩০ আগস্ট  পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত বরাদ্দের বিপরীতে মোট ২ হাজার ৪১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

এ বিবেচনায় সুগন্ধি চালের রপ্তানি কোটা ৫০ শতাংশ কমানোর পাশাপাশি রপ্তানির মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র এবং বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। ভবিষ্যতে নতুন অনুমোদনের ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী রপ্তানি কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে।

সরকার আশা করছে, এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পাশাপাশি রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।

সরকার জানিয়েছে, এ উদ্যোগের লক্ষ্য সুগন্ধি চালের রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনা করা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com