Loading Now

ভরপুর মাছ ও মুরগির বাজারেও দামে অস্বস্তি

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বাজারে অস্থিরতা যেন কাটছেই না। প্রতিযোগিতা করে বাড়ছে একটার পর একটা নিত্যপণ্যের দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণে অভিযান পরিচালনা করেও কাজে আসছে না। নানা অজুহাতে এক শ্রেনীর ব্যবসায়ীরা বাজার সিন্ডিকেটর মাধ্যমে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছে। ফলে কোন মতেই বাগে আসছে না নিত্যপণ্যের দাম। কিছুদিন আগে সবজির দাম বেশি থাকলেও এখন শীতকালীন বেশির ভাগ সবজির দাম নাগালের মধ্যে। তবে দেখা দিয়েছে ব্রয়লার মুরগির ও মাছের বাজারে অস্থিরতা। সপ্তাহেের ব্যবধানে সব ধরনের মুরগির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় মুরগির বাজারে অস্থিরতা দেখা গেছে। মুরগির বাজার নিয়ন্ত্রণে খাদ্যে দাম কমাতে হবে।
এদিকে পারিবারিক অনুষ্ঠানের জন্য মুরগি কিনতে এসে চোখ কপালে আরাফার ইসলামের। কারণ হঠাৎ কেজিতে দাম বেড়ে গেছে ১৫-২০ টাকা। এতে বাধ্য হয়ে পরিমাণে কম কিনছেন তিনি।

বরিশালের বাজারে আরাফাতের মতো অনেকেই মুরগি কিনতে এসে পড়েছেন বিপাকে। কারোই মিলছে না হিসাব। তাই পণ্য তালিকায় করছেন কাটছাঁট। বছরের শুরুতে ফের মুরগির বাজারের এমন অস্থিরতায় বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে বিয়ে, পিকনিক ও জন্মদিনের মতো সামাজিক অনুষ্ঠান করতে আগ্রহীরা।

তবে বাজার নিয়ন্ত্রণে গত সেপ্টেম্বরে ডিম ও মুরগির দাম বেঁধে দিয়েছিল সরকার। কিন্তু সে সময় উল্টো দাম বেড়ে অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে এ দুটি পণ্যের বাজার। নানা অভিযান ও সভা শেষে ডিমের দাম নিয়ন্ত্রণে এলেও ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে ফের উত্তাপ বাড়ছে মুরগির বাজারে যা এখনও চলছে।

বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহ ব্যবধানে সোনালি কক মুরগি ৩৪০ টাকা ও সোনালি হাইব্রিড ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।লাল লেয়ার মুরগি ৩০০ টাকা ও সাদা লেয়ার ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০/ ২০০ টাকা ও দেশি মুরগি ৫২০ টাকা থেকে ৫৪০ দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে মনিটরিংয়ের অভাবে মুরগি ও মাছের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন ক্রেতারা। তাদের মতে প্রতি সপ্তাহে মুরগির দাম বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে মধ্যবিত্ত পরিবার মাছ ও মাংস তালিকা থেকে হারিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে চৌমাথা বাজারে বাজার করতে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হালিম মৃধা জানান, সবজি কিনে স্বস্তি ফিরলেও মাছ ও মাংসের বাজারে যে অস্থিরতা শুরু হয়েছে এতে করে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেনুতে থাকবেনা মাছ ও মাংস বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে চলতি সপ্তাহে মাছের বাজার চড়া রয়েছে। এসব বাজারে ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১ হাজার ১০০ টাকা, ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের ১ হাজার ৭০০ টাকা ও ১ কেজি ওজনের ইলিশ ২ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারগুলোতে প্রতিকেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুই দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, দেশি মাগুর ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, চাষের পাঙাস ২০০ থেকে ২৩০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বড় কাতল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পোয়া ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২২০ টাকা, কই চাষের ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, বাতাসি টেংরা ১ হাজার ৩০০ টাকা, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি ৫০০ টাকা, পাঁচ মিশালি ২২০ টাকা, রূপচাঁদা ১ হাজার ২০০ টাকা, বড় বাইম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, দেশি কই ১ হাজার ২০০ টাকা, শোল ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, বেলে ৮০০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা ও কাজলি মাছ ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এসব বাজারে গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৬৫০ থেকে ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস কেজিপ্রতি ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বাজারগুলোতে এক ডজন লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা, হাঁসের ডিম ২২০ টাকা ও দেশি মুরগির ডিমের হালি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

 

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED