ববিতে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) উপাচার্যের বিরুদ্ধে গোপন সিন্ডিকেট ও ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে উপাচার্যের বাসভবনের গেট ভেঙে ফেলার ঘটনায় ১৭ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থীকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে বরিশাল বন্দর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন ববি’র সহকারী রেজিস্ট্রার কেএম সানোয়ার পারভেজ লিটন। অন্যদিকে একদল শিক্ষার্থী রোববার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলন করে ৬ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ প্রত্যাহারসহ পাঁচ দফা তুলে ধরেছেন। এ দাবিগুলো দ্রুত মেনে নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। এর আগে শুক্রবার বিকেলে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের বাসভবনের সামনে দুই ঘণ্টা বিক্ষোভ শেষে গেট ভেঙে ফেলে একদল শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের দেওয়া পাঁচ দফা হচ্ছে- ববি প্রশাসন থেকে থানায় দেওয়া অভিযোগ ৬ ঘণ্টার ভিতর প্রত্যাহার, অবিলম্বে সিন্ডিকেট মেম্বারদের নাম প্রকাশ ও আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বাদ দিয়ে ববি শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আওয়ামী ফ্যাসিস্টের দোসর রেজিস্ট্রারের মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাকে দ্রুত অপসারণের ঘোষণা করতে হবে এবং উপাচার্য দফতরে যে সকল আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আছে তাদেরও অপসারণ করতে হবে। ছাত্র সংসদের জন্য শিক্ষকদের দ্বারা কমিটি করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রোডম্যাপ ঘোষণা দিতে হবে। ২৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী এবং ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় ভাংচুরে জড়িত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সকল কর্মীদের অবিলম্বে একাডেমিক এবং আইনি শাস্তির আওতায় আনতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনসহ গত ৩ ডিসেম্বরের দাবিগুলোর অগ্রগতি কতদূর তা শিক্ষার্থীদের কাছে ১২ ঘণ্টার মধ্যে স্পষ্ট করতে হবে।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ জানান, আমরা আমাদের দাবি নিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছি, কিন্তু তিনি আমাদের সঙ্গে বসেননি। বিভিন্ন সময়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বাদ দিতে বললে তিনি তা করেননি। সিন্ডিকেটের এজেন্ডা না জানিয়ে আওয়ামী পুনর্বাসনের জন্য গোপন সিন্ডিকেট ডাকেন উপাচার্য। তিনি আমাদের দাবি না মেনে বাইরের আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের যুক্তি ও পরামর্শ শুনে এসব কাজ করছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে আওয়ামী দালালদের কথা শুনে বিভিন্ন অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের ভুলত্রুটি হতে পারে। কিন্তু একজন অভিভাবক সমতুল্য উপাচার্য কিভাবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেয়? উপাচার্যের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের করা অভিযোগে বোঝা যায় উপাচার্য ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন।
ববি উপাচার্য শুচিতা শরমিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময়েও এমন ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি ঘটানো হয়েছে। এজন্য শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রথমে আমরা নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু পাইনি; যে কারণে আমার কার্যালয়ে তালা ও বাসভবনের গেট ভাঙা হয়। এ ঘটনার পিছনে তিনজন মানুষ আছে। প্রথম থেকেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার দূরত্ব তৈরির চেষ্টা চলছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, অভিযোগ প্রত্যাহারের যুক্তি থাকতে হবে। শিক্ষার্থীদের আমার কাছে আসতে হবে, কথা বলতে হবে। ভুলের বিষয়ে অনুশোচনা হলে নিশ্চই আমরা বিবেচনা করবো। আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষতি করার জন্য বসিনি। তাদের মধ্যে কল্যাণ দেখতে চাই; ধ্বংস দেখতে চাই না।
বরিশাল নগর পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ববি প্রশাসন একটি অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি নিয়ে তদন্ত চলছে। এরপর অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হবে কিনা সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Post Comment