সবজির বাজার ঊর্ধ্বগতি, ডিম- মুরগিতে নেই স্বস্তি!
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
আবারও বৃষ্টি- বন্যার অজুহাতে দাম বেড়েছে সবজির। একইসঙ্গে দাম বেড়েছে ডিম ও মুরগির। এমতাবস্থায় নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে নাভিশ্বাস অবস্থা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের। সপ্তাহ ব্যবধানে বরিশালের বাজারগুলোতে সব ধরনের সবজি, মাছ ও ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেড়েছে। তবে বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে জাতীয় মাছ ইলিশ।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় নষ্ট হয়েছে ফসল। ফলে বাজারে পণ্য কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে এসব দ্রব্যের। এছাড়াও সবজির দামের ঊর্ধ্বগতির প্রভাব লেগেছে ডিম ও মুরগির দামেও।
বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজি কচুরমুখী ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৩০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ১০০ টাকা, কাঁকরোল ৮০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৮০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকায়, প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধুন্দুল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, ঝিঙা ৮০ টাকা শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সরবরাহ কম থাকায় কাঁচামরিচের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা। তারা জানান, গত সপ্তাহের তুলনায় কাঁচামরিচ কেজিতে ১০০/১৫০ টাকা ওপরে দাম বেড়েছে। কাঁচামরিচ বিক্রি করছেন না বলেও জানান অনেক ব্যবসায়ী।
সবজির দাম বেড়েছে কি না জানতে চাইলে সবজি বিক্রেতা জামাল জানান, গত সপ্তাহে তো সবজির দাম কিছুটা কম ছিল তবে এই সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে। কেন বাড়ছে বলতে পারছি না। মনে হয়, বৃষ্টি ও বন্যার কারণে তো অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সেকারণে দাম বাড়তে পারে।
এদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য মূল্যের এমন ঊর্ধ্বমুখীতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তাদের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার পতনে চাদা কমে আসলেও ভাঙেনি সিন্ডিকেট। তাই সবজি থেকে শুরু করে মাছ, মুরগি সব কিছুরই দাম বাড়ছে। সরকারের উচিৎ এইসব সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া।
এনিয়ে অনেকটায় ক্ষোভ জানিয়ে গৃহিণী রাহেলা বেগম বলেন, শুধু দাম বাড়ে, কোনো কিছুর দাম কমতে দেখি না। প্রতিদিনই কিছু না কিছুর দাম বাড়তেছে কিন্তু আমাদের আয় তো আর বাড়ে না। এইভাবে কতদিন চলা যায়। নতুন সরকার আসাতে ভেবেছিলাম, দাম কমবে। কয়েকদিন কিছুটা কম থাকলেও এখন তো আবার আগের মতই হয়ে গেছে।
এদিকে বাজার ঘুরে দেখা যায় গত সপ্তাহের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের মুরগি ও ডিম। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ৩০ টাকা বেড়ে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। যা গত সপ্তাহে ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে সোনালি মুরগি ২৭০- ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোনালি হাইব্রিড ২৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৫০০ টাকা, লেয়ার লাল মুরগি ৩১০ টাকা এবং সাদা লেয়ার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
কথা হয় ডিম বিক্রেতা আব্দুলাহর সঙ্গে। তিনি বলেন, এখনতো জিনিসপত্রের দাম সব কিছুই বেশি। মাছ ও সবজির দাম বাড়াতে ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। আগের চেয়ে এখন বেশি দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে বাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি সরবরাহ থাকলেও সিম ৩২০ টাকা কেজি, ফুলকপি ৮০ থেকে ৯০ টাকা , পাকা টমেটো প্রকারভেদে ২০০ , গাজর ২০০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
তবে অপরিবর্তিত রয়েছে, পেঁয়াজ, আলু, রসুন ও আদার দামে। গত সপ্তাহের মতই এদিনও প্রতি কেজি পেঁয়াজ মান ও আকার ভেদে ৯০ -১২০ টাকা, আলু ৫৫-৬০ টাকা, রসুন ২০০ টাকা ও আদা ২৬০-২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজারে নতুন আদা উঠায় ১২০ টাকা কেজি দরে বিজি হচ্ছে।
অন্যদিকে বাজারে সরবরাহ বাড়লেও চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ মাছ। এসব বাজারগুলোতে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১২৯০ থেকে ১৪০০ টাকা এবং ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রামের মাছ ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকা, ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকা এবং দেড় কেজি ওজনের ইলিশ ২৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এসব বাজারে এক কেজি শিং মাছ চাষের (আকারভেদে) বিক্রি হচ্ছে ৩২০ থেকে ৪৫০ টাকায়, প্রতি কেজি রুই মাছের দাম বেড়ে (আকারভেদে) ৩৩০ থেকে ৫০০ টাকায়, দেশি মাগুর মাছ ৮০০ থেকে ১১০০ টাকা, মৃগেল ৩২০ থেকে ৪০০ টাকায়, চাষের পাঙাস ২০০ থেকে ২২০ টাকায়, চিংড়ি প্রতি কেজি ৭০০ থেকে ১৪০০ টাকায়, বোয়াল মাছ প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়, কাতল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায়, পোয়া মাছ ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকায়, পাবদা মাছ ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকায়, তেলাপিয়া ২২০ টাকায়, কৈ মাছ ২২০ থেকে ২৩০ টাকায়, মলা ৫৫০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, কাচকি মাছ ৫০০ টাকায়, পাঁচ মিশালি মাছ ২২০ টাকায়, রূপচাঁদা ১২০০ টাকা, বাইম মাছ ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, দেশি কই ১২০০ টাকা, সোল মাছ ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, বেলে মাছ ৮০০ টাকা এবং কাইকলা মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
Post Comment