ঝড়ের মৌসুম: ঝুঁকি নিয়ে চলছে ছোট বড় নৌযান!
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
ঝড়ঝঞ্ঝার মৌসুমে বড় ক্ষতি এড়াতে উপকূলে ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোট নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। এ ছাড়া যেসব নৌযান চলাচল করবে, সেগুলোয় জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব বিধিনিষেধ মানছে না নৌযানগুলো। এতে ট্রলারডুবির ঘটনাও ঘটছে। ঝুঁকি বাড়ছে নৌযাত্রীদের।
ঝড়ের এই মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে ঢাকা-বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথগুলো। বিষয়টি মাথায় রেখে বিআইডব্লিউটিএ থেকে ছোট নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবে এমন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চলতে গিয়ে ২১ এপ্রিল সন্ধ্যার পর ভোলার মনপুরা-তজুমদ্দিন নৌপথে তজুমদ্দিন ঘাটের কাছে পণ্যবোঝাই একটি ট্রলার ডুবে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ট্রলারটি মনপুরা থেকে তজুমদ্দিনের উদ্দেশে বিভিন্ন পণ্য নিয়ে রওনা দেয়। পথে নদীর স্রোত হঠাৎ বেড়ে গেলে এবং ঢেউ তীব্র আকার ধারণ করলে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।
তবে ভোলার চরফ্যাশনের বেতুয়া নদীবন্দর কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁর আওতায় ১৭টি লঞ্চঘাট রয়েছে। সেগুলো থেকে ঢাকাগামী লঞ্চ চলাচল করে। এ লঞ্চগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ মৌসুমে সতর্ক হয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মেঘনাঘেঁষা এসব এলাকায় ‘ডেঞ্জার মৌসুমে’ ট্রলার চলে না।
জানা গেছে, ওই অঞ্চলে ‘ডেঞ্জার মৌসুম’ সত্ত্বেও দেদার চলছে ‘স্টিলবডি ট্রলার’। এ নিয়ে মনপুরার বাসিন্দা আল আমিন বলেন, এখন ঝড়ঝঞ্ঝার মধ্যেও চরফ্যাশন বেতুয়াঘাট থেকে মনপুরা জনতা ঘাট ট্রলারে যাত্রী ও মালামাল বহন করছে। এ ছাড়া তজুমদ্দিন লঞ্চঘাট থেকে মনপুরা হাজিরহাট লঞ্চঘাট পর্যন্ত মালবাহী ট্রলার চলাচল করে থাকে। তিনি বলেন, এখন উত্তল মেঘনা, অথচ বড় নদী পেরোতে হয় ছোট ট্রলারগুলোকে।
এদিকে গত রোববার রাতে ঝড়ের কবলে পড়ে ঢাকা থেকে ইলিশাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি কর্ণফুলী। একই রাতে তাসরিফ নামক বেতুয়া ঘাটের একটি লঞ্চও ঝড়ের কবলে পড়ে।
ভোলার বন্দর কর্মকর্তা বাবু নির্মল রায় বলেন, রোববার রাতে কর্ণফুলী-১ লঞ্চ ঢাকা থেকে ইলিশা আশার পথে ঝড়ের কবলে পড়েছিল। তবে কোনো হতাহত হয়নি। তিনি দাবি করেন, ডেঞ্জার মৌসুম চলায় এ অঞ্চলে কোনো ধরনের ছোট নৌযান চলতে দেওয়া হচ্ছে না।
তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রায় প্রতিদিনই একাধিক ছোট ট্রলার বিভিন্ন বন্দর থেকে ছেড়ে যাচ্ছে। কোনোটিতে যাত্রীর পাশাপাশি পণ্যও থাকছে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিদর্শক জুলফিকার আলী বলেন, ‘ডেঞ্জার মৌসুমের কারণে’ মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এমএল টাইপের নৌযান চলাচলে উপকূলে বিধিনিষেধ আছে। তবে সি সার্ভে আছে এমন নৌযান ওই রুটে চলবে।



Post Comment