Loading Now

ড্রামের হাওয়ায় ১২দিন পরে ভেসে উঠল ডুবন্ত ‘মানিক’ লঞ্চ

১২ দিন নদীর তলায় নিঃশব্দে পড়ে থাকার পর হঠাৎই যেন জেগে উঠল যাত্রীবাহি লঞ্চটি। দড়ি, খালি ড্রাম আর বাতাসের শক্তিতে ধীরে ধীরে পানির বুক চিরে ওপরে উঠল এমভি মানিক-৪।

সোমবার দুপুরে বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফ লাগোয়া কীর্তনখোলা নদী এলাকায় অর্ধ-ভাসমান অবস্থায় তুলে আনা হয় ডুবন্ত এই লঞ্চ।

এখন সেটিকে দুটি বার্জের সঙ্গে বেঁধে একটি টোয়িং জাহাজের সাহায্যে ঢাকার পথে নেওয়া হচ্ছে। পুরো পথ পাড়ি দিতে সময় লাগবে প্রায় চার দিন।

 

লঞ্চ ডুবির ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১ এপ্রিল। চরমোনাইয়ের বার্ষিক মাহফিলে অংশ নেওয়া যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে নদীর তীরেই নোঙর করা ছিল লঞ্চটি।

ভাটার সময় হঠাৎ পানি কমে গেলে লঞ্চটির পেছনের অংশ দেবে যায়। এরপর ধীরে ধীরে সেটি তলিয়ে যায় নদীর প্রায় ৫৫ ফুট গভীরে। সে সময় লঞ্চটি খালি থাকায় প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।

 

ডুবুরিরা জানান, সরাসরি লঞ্চ তোলার পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে পুরোনো কিন্তু কার্যকর একটি পদ্ধতি। অন্তত ৩০০টি খালি ড্রাম পানিতে ভরিয়ে লঞ্চের ভেতরে দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়।

পরে পাইপের মাধ্যমে ড্রামের ভেতরে বাতাস ঢোকানো হলে ভেতরের পানি বেরিয়ে যায়। এতে ড্রামগুলো ধীরে ধীরে ভাসমান শক্তি তৈরি করে এবং সেই শক্তিতেই লঞ্চটি ওপরে উঠে আসে।

 

উদ্ধারকাজে ঢাকার ৮জন ডুবুরি অংশ নেন। অংশ নেওয়া ডুবুরি মিরাজুল ইসলাম, জহিরুল ইসলাম, মানিক হোসেন, ইব্রাহীম হোসেন, কালু মিয়া বলেন, প্রথমে ইঞ্জিন রুমে ও তার আশপাশে অন্তত ২৫০টি ড্রাম ঢুকানো হয়েছে। তার আশপাশে আরো প্রায় ৫০টি ড্রাম দিয়ে লঞ্চটি ভাসানো হয়েছে। পরে লঞ্চের নীচে মোটা ক্যাবল দিয়ে দুটো বার্জের সঙ্গে লিভারের সঙ্গে অন্তত লঞ্চের ৮০ ভাগ ভাসানো হয়েছে।

 

ডুবুরিরা আরো বলেন, একসঙ্গে অনেকগুলো ড্রাম ব্যবহার করায় ধাপে ধাপে লঞ্চটিকে তোলা সম্ভব হয়েছে। হঠাৎ টান দিলে ক্ষতি হতে পারত। উদ্ধারের পরপরই লঞ্চটিকে দুটি বার্জের সঙ্গে শক্তভাবে বেঁধে দেওয়া হয়। এরপর ‘এমভি হেলেঞ্চা’ নামের একটি টোয়িং জাহাজ সেটিকে টেনে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করে।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED