ববির বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্রের পদত্যাগ
নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র জিয়াদ হাসান জিম সংগঠনের সকল পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। গত ২০ এপ্রিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্রের পদসহ টাঙ্গাইল জেলা ও মধুপুর উপজেলার সকল সাংগঠনিক কমিটি থেকে পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন ।
ভিডিও বার্তায় জিয়াদ হাসান জিম জানান, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতৃত্বের একটি সাম্প্রতিক মন্তব্য তাকে ব্যথিত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের (এনসিপি) কথা বলেছেন । জিমের মতে, একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের অভিভাবক হিসেবে এ ধরনের মন্তব্য করা অনুচিত, কারণ এতে সাধারণ ও অরাজনৈতিক শিক্ষার্থীদের আবেগে আঘাত লাগে ।
পদত্যাগের পেছনে স্থানীয় ও সাংগঠনিক অসহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। জিম অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে তার নিজ উপজেলা মধুপুরে আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি । এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘ট্যাগ’ বা তকমা সইতে হয়েছে । এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেস ক্লাব থেকেও তাকে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল, যা তার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রেখেছে।
নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে জিয়াদ হাসান জিম বলেন, “আমি মানুষের জন্য এবং ন্যায়ের পক্ষে কাজ করতে চাই। এর জন্য কোনো বিশেষ প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজন নেই। একজন সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেও বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব”। তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো বিশেষ রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে তিনি কাজ করতে আগ্রহী নন।
পদত্যাগের ঘোষণার পাশাপাশি তিনি কিছু জনগুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলাকে পূর্ণাঙ্গ জেলায় উন্নীত করা এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সংকট নিরসন, লাইব্রেরি সুবিধার আধুনিকায়ন ও হলের খাবারের মান নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে হাসিব আল ইসলাম, রিফাত রশিদ ও মুইনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জিয়াদ হাসান জিমকে মুখপাত্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল । দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও আদর্শিক কারণে তিনি এই পদত্যাগের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেন ।



Post Comment