মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
সমস্যা থাকবেই, তার মধ্য দিয়েই এগিয়ে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার ডুবি, ৬ জেলে নিখোঁজ বরিশালের ইয়াবাসহ ব্রাজিল সমর্থক গ্রেপ্তার বরিশালসহ ১৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত অক্টোবরেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা হিজলায় ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেল বহরে হামলা-ভাঙচুর খাগড়াছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৩ বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকের বাগবিতণ্ডা, চরম হট্টগোল

সৌদির আপত্তিতেই প্রজেক্ট ফ্রিডম থেকে পিছু হটেছেন ট্রাম্প

/ ৭৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে সহায়তার পরিকল্পনা থেকে হঠাৎ সরে এসেছেন। আর এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ এক উপসাগরীয় মিত্রের আপত্তি কাজ করেছে। দুই মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে তাদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহার করে অভিযান পরিচালনার অনুমতি স্থগিত করে দেয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে—গত রোববার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প হঠাৎ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণা করে উপসাগরীয় মিত্রদের বিস্মিত করেন। এতে সৌদি আরবের নেতৃত্ব ক্ষুব্ধ হয়। সৌদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে জানায়, এই কাজের জন্য রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন করতে দেওয়া হবে না এবং সৌদি আকাশসীমাও ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানে মধ্যে ফোনালাপেও সংকটের সমাধান হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ ওই আকাশসীমায় পুনরায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ট্রাম্পকে প্রজেক্ট ফ্রিডম সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়।

উপসাগরীয় অন্য ঘনিষ্ঠ মিত্ররাও এই পরিকল্পনা সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না। অভিযানের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতারের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। এক সৌদি সূত্র এনবিসিকে জানিয়েছে, ট্রাম্প ও যুবরাজ নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। সূত্রটি আরও জানায়, সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন।

ট্রাম্পের প্রজেক্ট ফ্রিডম ঘোষণা প্রসঙ্গে সৌদি সূত্রটি বলেছে, ‘সমস্যা হলো ঘটনাগুলো বাস্তব সময়েই খুব দ্রুত ঘটছে।’ সূত্র আরও জানায়, যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব ‘আন্তরিকভাবে সমর্থন’ করছে। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এক বিবৃতিতে বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার ঘোষণা দেওয়ার আগে আঞ্চলিক মিত্রদের অবহিত করা হয়েছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক বলেন, ট্রাম্পের ঘোষণার আগে ওমানের সঙ্গে প্রজেক্ট ফ্রিডম নিয়ে কোনো সমন্বয় করা হয়নি। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আগে ঘোষণা দিয়েছে, পরে আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করেছে।’ তবে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা ক্ষুব্ধ বা বিরক্ত হইনি।’

ইরানের অবরোধ ভাঙতে ট্রাম্প সপ্তাহান্তে এই অভিযান ঘোষণা করেছিলেন। মঙ্গলবার পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন ব্রিফিংয়ে তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিকল্পনাটির পক্ষে জোরালো বক্তব্য দেন। কিন্তু অভিযান শুরু হওয়ার প্রায় ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প হঠাৎ সেটি থামিয়ে দেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অভিযান বন্ধ হওয়ার আগে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের জন্য উপসাগরে আরও কয়েকটি জাহাজ প্রস্তুত করা হচ্ছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ প্রজেক্ট ফ্রিডমের আওতায় নিরাপদে প্রণালি পার হয়।

সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিমান, জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার বিমান এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন রেখেছে। সৌদি আরব ইরান যুদ্ধকে সমর্থন দিতে ওই ঘাঁটি ব্যবহার করে মার্কিন বিমান চলাচলের অনুমতি দিয়েছিল। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে অবস্থানরত মার্কিন বিমানকেও সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে সীমান্তঘেঁষা আকাশসীমা ব্যবহার করতে হলে আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতা প্রয়োজন।’ তিনি বলেন, কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প পথই নেই। যুদ্ধবিমানগুলো মূলত জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় প্রতিরক্ষামূলক ছাতা হিসেবে কাজ করছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী অন্য দেশের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতিকে ‘এবিও—বা অ্যাকসেস, বেসিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট’ বলা হয়। যুদ্ধবিমান, জ্বালানি ট্যাংকার ও সহায়ক বিমান পরিচালনায় আঞ্চলিক মিত্রদের অনুমতি প্রয়োজন হয়। সৌদি আরব ও জর্ডান ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কুয়েত আকাশপথ ব্যবহারের জন্য অপরিহার্য এবং ওমান আকাশপথ ও নৌ-লজিস্টিক দুই ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রজেক্ট ফ্রিডম শুরুর ট্রাম্প কাতারের আমিরের সঙ্গে কথা বলেন। কাতারের এক কর্মকর্তা জানান, আলোচনায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি এবং ‘সমুদ্র নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব’ নিয়ে কথা হয়েছে। একই বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের আমির উত্তেজনা প্রশমনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এখন অঞ্চলটিতে তাদের উপস্থিতি আরও বড়। সেখানে দুটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে। পাশাপাশি পেন্টাগন অতিরিক্ত লজিস্টিক ও সহায়ক ব্যবস্থা পাঠিয়েছে এবং অস্ত্রভান্ডার পুনরায় পূরণ করেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com