Loading Now

পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের দাবিতে ববিতে কর্মবিরতি, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষকেরা। এতে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের পাঠদান বন্ধ আছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ জন শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে থাকায় গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক সভায় এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। তাঁদের এ দাবির পক্ষে ১০২ জন শিক্ষক সংহতি প্রকাশ করেন। তাঁরা বলেন, আজকের কর্মসূচির পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পদোন্নতির ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নিলে আগামীকাল বুধবার পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি শুরু করা হবে।

এর আগে গত রোববার সন্ধ্যায় একই দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জামাল উদ্দিন। ২৩ ঘণ্টা পর গতকাল বিকেলে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শিক্ষকদের কর্মবিরতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম আজ থমকে গেছে। শিক্ষকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করলেও তাঁরা পাঠদানে বিরত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আবদুল কাইউম বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত। বারবার উপাচার্যের দ্বারস্থ হয়ে কোনো সমাধান পাইনি। ফলে আমাদের আন্দোলন ছাড়া বিকল্প কোনো উপায় ছিল না।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভিন্ন বিভাগের অন্তত চারজন শিক্ষার্থী জানান, একাডেমিক কার্যক্রম ও পরীক্ষা যাতে বিঘ্নিত না হয়, এ জন্য শিক্ষকদের দাবির প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। তা না হলে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়বে।

শিক্ষকেরা জানান, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এত দিন ধরে একাডেমিক কার্যক্রম, ভর্তি, পরীক্ষা, ডিগ্রি প্রদান এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের পদোন্নতিসংক্রান্ত সব কার্যক্রম একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেটের অনুমোদনের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছিল। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক জারি করা একটি নির্দেশনা বিশ্ববিদ্যালয়টির সামগ্রিক কার্যক্রমে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।

ইউজিসির ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের আওতায় চাকরি, পেনশন, পদোন্নতি ও অন্যান্য বিধিবিধান সংশোধন ও প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষ, অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে অনুমোদিত সংবিধির ভিত্তিতেই পদোন্নতি কার্যকর করা হবে।

পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকেরা বলছেন, এই নির্দেশনার ফলে একটি গুরুতর আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৩৫ ও ৩৭ ধারায় উল্লিখিত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের জন্য উপাচার্যের অনুমোদিত সংবিধি ও বিধি থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এমন অনুমোদিত কাঠামো বর্তমানে বিদ্যমান নেই। ফলে শুধু পদোন্নতি নয়, বরং ভর্তি ও পরীক্ষা কার্যক্রম—সবকিছুরই আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ পরিস্থিতিতে শিক্ষকেরা ঘোষণা দিয়েছেন, সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা ‘বিধি-সংবিধিহীন’ কোনো একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চান না।

পদোন্নতিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের মধ্যে আছেন ২৪ জন সহযোগী অধ্যাপক, ৩০ জন সহকারী অধ্যাপক এবং ৬ জন প্রভাষক। তাঁদের ভাষ্য, বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব পাওয়ার পর গত বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে পদোন্নতি বোর্ড গঠন করেন। এরপর দুটি সিন্ডিকেট সভা হলেও উপাচার্য নিয়োগ বোর্ড অনুমোদনের প্রস্তাব সিন্ডিকেটে তোলেননি। সর্বশেষ ৩১ মার্চ সিন্ডিকেট সভা হয়।

উপাচার্য মো. তৌফিক আলম আজ সকালে বলেন, শিক্ষকেরা ২০১৫ সালের বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীন পদোন্নতি চাইছেন, কিন্তু তাতে ইউজিসির আপত্তি আছে। তাই পুরোনো নিয়মে শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উপাচার্য আরও বলেন, ‘অভিন্ন নীতিমালা দেশের ৫০টি বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করেছে। যে তিনটি করেনি, এর মধ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এ জন্য আমি শিক্ষকদের অনুরোধ করব, যাতে ক্লাস-পরীক্ষা বিঘ্নিত হয়, সে ধরনের কর্মসূচি থেকে সরে এসে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা একটি নতুন সংবিধি প্রণয়ন করি। এতে দ্রুত তাঁরা পদোন্নতি পাবেন।’

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED