Loading Now

গৌরনদীতে বিএনপির দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, তথ্যমন্ত্রীর ব্যানার পানিতে

গৌরনদী প্রতিনিধি ।।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় বিএপি নেতার অফিসে হামলা চালিয়ে চেয়ার ও তথ্যমন্ত্রীর ব্যানার ভাঙচুরসহ মারধরের অভিযোগ ওঠেছে ছাত্রদল ও যুবদল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। সোমবার (২০ এপ্রিল) রাত সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিন্টুর অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

মিজানুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, আমি মাদক বিক্রির বিষয়ে প্রতিবাদ করেছিলাম, এতে স্থানীয় কয়েকজন মাদক বিক্রেতা আমার ওপর ক্ষুব্ধ। এরই জেরে সোমবার সন্ধ্যার পর ঢাকা কোতয়ালি থানা ছাত্রদলের সদস্য রাকিব হাসান আলভী, বার্থী ইউনিয়ন যুবদলের নেতা জুয়েল হাওলাদার, মনির ফকির, শহিদুল ফকির, বার্থী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি অভি কাজীসহ আরও ১০/১২ জন আমার অফিসে হামলা চালায়। এসময় তারা অফিসের চেয়ার ভাঙচুর করে পানিতে ফেলে দেয় এবং তথ্যমন্ত্রীর ব্যানার ভেঙে ফেলে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওইদিন রাত ৯টার দিকে তথ্যমন্ত্রীর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বার্থী বাজারে আসি। এসময় বিএনপির সিনিয়র নেতাকর্মীদের সামনেই আমাকে মারধর করে তারা।

তবে বিক্ষুব্ধ যুব ও ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা মিজানুরের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা জানান, ফ্যাসিস্ট আ.লীগ সরকারের আমলে মিজানুর রহমান ঢাকায় থেকে একটি বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করতেন। আওয়ামী লীগের পতনের পর মিন্টু এলাকায় ফিরে বিএনপির বড় নেতা সেজেছেন। হামলা-মামলার শিকার বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে বার্থী ইউনিয়নে একছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন।

যুব ও ছাত্রদলের ওই নেতাকর্মীরা বলেন, তিনি (মিজানুর) পক্ষপাতিত্ব, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতি করে ভিজিএফর স্লিপ বিতরণ, টাকার বিনিময়ে জেলে কার্ডের চাল বিতরণ করেন। এছাড়া গ্রাম্য সালিশ করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ইরি-বোরো ব্লকের নেতৃত্ব দখল, যাত্রী ছাউনি দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজ করে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছেন। তার চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে ইউনিয়ন যুবদল ও ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী বার্থী বাজার ও বার্থী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

তারা বলেন, বার্থীতে মিজানুর রহমানের কোনো অফিস নেই। সে যাত্রী ছাউনি দখল করে অফিস বানিয়েছে। এখানে কোনো ভাঙচুর কিংবা হামলার ঘটনা ঘটেনি।

উপজেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লবের মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

গৌরনদী থানা পুলিশের ওসি তারিক হাসান রাসেল সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED