ভোলা প্রতিনিধি ।।
ভোলার লালমোহনে প্রকাশ্য দিবালোকে মো. নয়ন নামের এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১টার সময় লালমোহন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বনির্ভর রোডের মাথায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্রসহ খুনি নিজে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন।
নিহত মো. নয়ন (১৮) লালমোহন পৌর এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী সালাউদ্দিনের ছেলে। সে স্থানীয় ডা: আজহার উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল।
অন্যদিকে, আত্মসমর্পণকারী ঘাতকের নাম মোঃ মানিক (১৬)। সে উপজেলার লালমোহন সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের আলাউদ্দিনের ছেলে এবং লাঙ্গলখালী আব্দুল ওহাব মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, আজ দুপুর ১টার দিকে পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের স্বনির্ভর রোডের মাথায় নয়নকে একা পেয়ে মানিক আচমকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই রক্তক্ষরণ হয়ে নয়নের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পরপরই ঘাতক মানিক নিজেই রক্তমাখা অস্ত্র হাতে লালমোহন থানায় হাজির হয় এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে নিজের অপরাধ স্বীকার করে।
লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘাতক মানিক বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঠিক কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ঘটনার পেছনে কোনো পূর্ব শত্রুতা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের পরিবার এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।’