মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন
Logo

পরকীয়ার অভিযোগে চাঁদা দাবি, অতঃপর ভোরে মিলল ব্যবসায়ীর লাশ

/ ২০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬

পিরোজপুর প্রতিনিধি ।।

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শাঁখারিকাঠী ইউনিয়নের তৈয়বের হাট বাজারে এক বিধবা নারীর সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ তুলে মো. আনিছুর রহমান সিকদার (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর, আটকে রেখে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে।

আটকে রাখার কয়েক ঘণ্টা পর শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) নাজিরপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

নিহত আনিছুর রহমান সিকদার নাজিরপুর উপজেলার দীর্ঘা ইউনিয়নের ছৈলাবুনিয়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন শিকদারের ছেলে। তিনি শাঁখারিকাঠী ইউনিয়নের তৈয়বের হাট বাজারে লেপ-তোষকের ব্যবসা করতেন।

ঘটনার বিষয়ে অভিযোগকারী ওই বাজারের হোটেল ব্যবসায়ী আসমা আক্তার (৪৫) বলেন, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে তৈয়বের হাট বাজারের ব্যবসায়ী আতাহার মোল্লা ও তার কয়েকজন সহযোগী তার সঙ্গে আনিছুর রহমান সিকদারের পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে এমন অভিযোগ তোলেন। পরে তাকে ও আনিছুর রহমান সিকদারকে একটি দোকানে আটকে রেখে মারধর এবং টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আসমা আক্তারের দাবি, শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী একসঙ্গে খিচুড়ি খাওয়ার পর আনুমানিক রাত ২টার দিকে তিনি বাথরুমে যাওয়ার জন্য বের হন। এ সময় তাকে ডেকে নিয়ে আনিছুর রহমান সিকদারের দোকানে আটকে রাখা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, আনিছুর রহমান সিকদারের কাছে প্রথমে ২০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিলে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আতাহার মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন এবং এ ঘটনার জেরেই আনিছুর রহমানের সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্কের অপবাদ দেওয়া হয়েছে।

নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী কহিনুর আক্তার কেয়া বলেন, রাত আড়াইটার দিকে তাকে ফোন করে জানানো হয়, তার স্বামী পরকীয়া করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন এবং তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। পরে তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয় বলে তিনি জানান। স্বামীকে যেন কোনো ধরনের মারধর করা না হয়, সে অনুরোধ করে সকালে ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

কহিনুর আক্তারের দাবি, সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। তিনি বলেন, আমি আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।

নিহতের মেয়ে আখি আক্তার অভিযোগ করেন, রাত ২টার দিকে তিনি ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের মোবাইল করে তার বাবাকে মারধর না করার অনুরোধ করেছিলেন। তার দাবি, এরপরও তার বাবাকে মারধর করা হয়।

নিহতের ছেলে নুর সিকদার তামিম বলেন, সকালে তার ভাই ফোন করে বাবার মৃত্যুর খবর জানান। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তার বাবাকে সারারাত আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। তার দাবি, রাত ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে তাঁর বাবা মারা যান।

তবে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আনিছুর রহমান সিকদার সকালে বাথরুমে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। এর আগে রাতে নারী-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে তাকে আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওসি আরও বলেন, আনিছুর রহমান সিকদারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুরে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় আসমা আক্তারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com