মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
অক্টোবরেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা হিজলায় ছাত্রদল নেতার মোটরসাইকেল বহরে হামলা-ভাঙচুর খাগড়াছড়িতে দুপক্ষের গোলাগুলি, নিহত ৩ বেসরকারি ক্লিনিকে লেবার রুম না থাকলে লাইসেন্স বাতিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকারি ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি-সম্পাদকের বাগবিতণ্ডা, চরম হট্টগোল দুই যুবদল নেতার চাঁদাবাজির ভিডিও ভাইরাল, কারণ দর্শানোর নোটিশ পুলিশের ৩৩ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাল সরকার কাদামাটির সড়কে চরম ভোগান্তি, পাঁচ গ্রামের যোগাযোগ ব্যাহত! ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কত দূর যাবে, কী বলছে সুপারকম্পিউটার

অক্টোবরেই শুরু হতে পারে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপে ইউপি ও পৌরসভা

/ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

ঢাকা আগামী অক্টোবর মাস থেকে পর্যায়ক্রমে দেশের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে সব ধরনের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, সরকারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষ হলে এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে প্রথম ধাপের ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য জানান।

কেন প্রথমে ইউপি ও পৌরসভা?
বর্তমানে দেশের স্থানীয় সরকারের প্রায় সব স্তরেরই মেয়াদ শেষ বা নির্বাচন বাকি রয়েছে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, সাংবিধানিক ও আইনি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এসব নির্বাচন পর্যায়ক্রমে দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘কোন স্তরের নির্বাচন আগে হবে, সে বিষয়ে কমিশন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বাস্তব অবস্থা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করলে প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।’

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, উপজেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার প্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকে। তাই এই দুটি নির্বাচন আগে শেষ করে পরবর্তী সময়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।

ভোটের দিনক্ষণে যেসব বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে
কমিশন জানিয়েছে, চূড়ান্ত তফসিল ঘোষণার আগে বেশ কিছু জাতীয় ও প্রাকৃতিক বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে: শিক্ষার্থীদের পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি; ধর্মীয় উৎসব ও বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান; বর্ষা মৌসুম এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এখনও সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি এবং কোনো চিঠিও আসেনি। তবে কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে সব প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছে। আলোচনা শুরু হলে খুব দ্রুতই আমরা নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত হতে পারব।’

নির্বাচনী বিধিমালায় বড় পরিবর্তন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন, বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে এনেছে ইসি। ইতিমধ্যে খসড়া আচরণবিধি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের মতামত চাওয়া হয়েছে।

সংশোধিত বিধিমালায় বেশ কিছু নীতিগত ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার মাছউদ। গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১. ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালট বাতিল: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করা হবে না। একই সঙ্গে থাকছে না পোস্টাল ব্যালটের সুবিধাও। সম্পূর্ণ ভোটগ্রহণ হবে ঐতিহ্যবাহী কাগজের ব্যালটের মাধ্যমে।

২. অনলাইন মনোনয়ন বাতিল: এবার অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ থাকছে না। প্রার্থীদের সরাসরিই মনোনয়নপত্র দাখিল করতে হবে।

৩. জামানত বৃদ্ধি: ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হচ্ছে।

৪. পোস্টার ব্যবহারে কড়াকড়ি: জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় নির্বাচনেও যত্রতত্র পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না।

বর্তমানে দেশে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

সংঘাত এড়াতে বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা
সাধারণত স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তৃণমূল পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ায় সহিংসতা বেশি দেখা যায়। এই বিষয়টি মাথায় রেখে এবার বিশেষ নিরাপত্তার কথা ভাবছে কমিশন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হবে। যেহেতু নির্বাচনগুলো অঞ্চলভিত্তিক ও ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত হবে, তাই প্রতি ধাপের অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে পরবর্তী ধাপের নিরাপত্তা পরিকল্পনা আরও জোরদার করা হবে।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে রাজনৈতিক দল, প্রশাসন ও ভোটারদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে।

সরকারের অবস্থান
এদিকে সম্প্রতি সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনকে সব ধরনের লজিস্টিক ও প্রশাসনিক সহযোগিতা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com