শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন
Logo

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

/ ১২ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬

স্পোর্টস ডেক্স ।।

রাইলি মেরেডিথের শর্ট বল পুল করলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। বল যখন আকাশে, তখনই মিরপুর শেরেবাংলার ধারাভাষ্যকক্ষ থেকে শামীম আশরাফ চৌধুরীর কণ্ঠে বোঝা গেছে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত বলটা পৌঁছাল সীমানার ওপারে। মিরাজের এই ছক্কায় লেখা হয়ে গেল ইতিহাস। প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

ছয়বারের ওয়ানডে বিশ্বকাপজয়ী ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ের পর আইসিসি ইভেন্টে নেই সফলতা। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ অস্ট্রেলিয়া খেলছে ট্রাভিস হেড, মিচেল মার্শ, প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউডদের মতো তারকাদের ছাড়াই। আজ মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে হারিয়ে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতল বাংলাদেশ। এখন শুধু বাংলাওয়াশ করার অপেক্ষা। ১৪ জুন শেরেবাংলায় তৃতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পর বাকি রইল ইংল্যান্ড। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, আফগানিস্তান, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া—টেস্ট খেলুড়ে এই ১০ দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল বাংলাদেশ।

বৃষ্টির কারণে ডাকওয়ার্থ লুইস ৪১ ওভারে ১৯২ রানের লক্ষ্য হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। একাদশে এক পরিবর্তনও আনা হয়েছে। সাইফ হাসানের পরিবর্তে ওপেনিং করেছেন সৌম্য সরকার। তবে তাঁর সঙ্গী তানজিদ হাসান তামিম রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন। ইনিংসের দ্বিতীয় বলে তানজিদ তামিমকে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন জ্যাভিয়ের বার্টলেট।

শূন্য রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ব্যাটিংয়ে নামেন নাজমুল হোসেন শান্ত। সৌম্য-শান্ত সাবলীলভাবে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মোকাবিলা করেন। ভালো বলকে সমীহ করেছেন। বাজে বল পেলে সেটাকে বাউন্ডারিতে পরিণত করেছেন তাঁরা (সৌম্য-শান্ত)। দ্বিতীয় উইকেটে ৯৩ বলে ৮৬ রানের জুটি গড়েন সৌম্য-শান্ত।

সৌম্যকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ম্যাট রেনশ। তাতে সৌম্যর দায়ই বেশি। ১৬তম ওভারের পঞ্চম বলে রেনশকে রিভার্স সুইপ করতে যান সৌম্য। এজ হওয়া বল স্লিপে ক্যাচ ধরেন বার্টলেট। কিছুক্ষণ পর বিদায় নেন শান্তও। এই বাঁহাতি ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন মেরেডিথ। সৌম্য, শান্ত দুজনেই করেন ৪৩ রান।

দুই বাঁহাতি ব্যাটার সৌম্য, শান্তর বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ১৮.১ ওভারে ৩ উইকেটে ৯৮ রান। এরপর মিডল অর্ডারে লিটন দাস, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি। ২১ রান করা লিটনকে ফিরিয়েছেন ক্যামেরন গ্রিন। আর সৈকতের উইকেট নিয়েছেন অ্যাডাম জাম্পা। বাংলাদেশের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার করেন ১৫ রান।

লিটন, সৈকতের বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ২৭ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪৪ রান। বাকি পথটুকু নিরাপদে পাড়ি দিয়েছেন মিরাজ ও তাওহীদ হৃদয়। ষষ্ঠ উইকেটে ৪৯ বলে ৫১ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটি গড়েন তাঁরা (মিরাজ-হৃদয়)। তুলির শেষ আঁচড় মিরাজ দিয়েছেন ফাইন লেগ দিয়ে ছক্কা মেরে।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ব্যাটিং নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক জশ ইংলিস। ২ ওভারে ৩ উইকেটে শূন্য রানে পরিণত হয় অস্ট্রেলিয়া। দুই ওপেনার ম্যাথু শর্ট ও কুপার কনোলি এবং ম্যাট রেনশ—এই তিন ব্যাটার মেরেছেন ডাক। ওপেনার শর্টকে বোল্ড করে তাসকিন আহমেদের শুরু। কনোলি, রেনশকে ফিরিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। উইকেটের পেছনে ক্যাচ ধরেছেন লিটন দাস।

১০০ থেকে ১৫০-এর ভেতরে অস্ট্রেলিয়ার গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা হয়নি। ৪২ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৭ রানে আটকে যায় অজিরা। বেলা ২টা ৩৪ মিনিটে বৃষ্টি নামার পর আড়াই ঘণ্টা খেলা হয়নি। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন মারনাস লাবুশেন। ৮৫ বলে ৩ চারে ৫৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন অজি এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। বাংলাদেশের মোস্তাফিজ, তাসকিন নিয়েছেন তিনটি করে উইকেট। ৭ ওভারে ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোস্তাফিজ। দুই ওভার মেডেনও দিয়েছেন তিনি। তানভীর ইসলাম পেয়েছেন ২ উইকেট।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com