শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৮:৫৬ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :

টাইগারদের হারিয়ে সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

/ ২৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

স্পোর্টস ডেক্স ।।

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হেরেছিল বাংলাদেশ। সিরিজ বাঁচাতে আজ দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প ছিল না টাইগারদের সামনে। সে লক্ষ্যে খেলতে নেমে টসে হেরে আগে বোলিং করে স্বাগতিকরা। আগে ব্যাট করে ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিডের মারকুটে ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে অজিরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশও শুরুটা করেছিল দুর্দান্ত। ৪৮ রানের ওপেনিং জুটির পর সাইফ হাসান ও পারভেজ ইমনের জুটিতে জয়ের আশা জাগিয়েছিল লাল-সবুজের দল। তবে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত আর জিততে পারেননি তাওহিদ হৃদয়রা, ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করলে, ৭ রানের হারে সিরিজ খুইয়েছেন তারা।

১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই ওপেনার সাইফ ও তানজিদ তামিম মিলে শুরুটা করেছিলেন দুর্দান্ত। দুজন মিলে ৩.৩ ওভারেই গড়েছিলেন ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। তবে ৩.৪ ওভারে রেনশর বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন তামিম, ফেরার আগে তিনি ১৫ বলে করেন ৩০ রান। এরপর সৌম্য সরকারও দ্রুতই আউট হন। দলীয় ৭৭ রানেই সাজঘরের পথ ধরেন তিনি।

এদিকে সৌম্য ফেরার পর পারভেজ ইমনকে নিয়ে দলের হাল ধরেছিলেন সাইফ। এ দুজন মিলে অজি বোলারদের বিপক্ষে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেছেন। ফলে স্কোরবোর্ডে রানও ওঠেছে দ্রুত। এ দুজনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে ১২ ওভারে ২ উইকেটে ১২২ রান নিয়ে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল বাংলাদেশ। তবে বিপত্তি বাঁধে ১৩তম ওভারে।

দলীয় ১৩০ রানে ত্রয়োদশ ওভারে অ্যারন হার্ডির বলে মিচ মার্শের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরেন ইমন। ফেরার আগে তিনি করেন ২২ বলে ৩৬ রান। ফলে ভাঙে দুজনের ৫৩ রানের জুটি। এদিকে ইমন ফেরার পরের ওভারেই আউট হন সাইফও।

চতুর্দশ ওভারের দ্বিতীয় বলে দলীয় ১৩৪ রানে সাইফ আউট হন জোয়েল ডেভিসের বলে, ফেরার আগে তিনি করেন ৩৩ বলে ৪২ রান। পরপর দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটার আউট হওয়ায় বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। এরপর দলীয় ১৫৩ রানে আউট হন শামিম হোসেনও।

দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে তাই চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত আর এই চাপ সামলানো সম্ভব হয়নি। এক পর্যায়ে জয়ের জন্য শেষ ৪ ওভারে ৪৪ রান প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইন ও হৃদয় মিলে মারকুটে ব্যাটিংয়ে ব্যবধান কমিয়েও এনেছিলেন। শেষ ওভারের জয়ের জন্য দরকার ছিল ২৩ রান। তবে জয়ের দেখা আর পায়নি বাংলাদেশ, হৃদয় শেষ বলে আউট হলে ৭ রানে হারে বাংলাদেশ।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই নাসুমের বলে এক চার ও এক ছয়ে ১২ রান নিয়েছিলেন দুই অজি ওপেনার। দ্বিতীয় ওভারে খরুচে ছিলেন আব্দুল গাফফার সাকলাইনও। প্রথম দুই ওভারেই তাই অজিদের স্কোরবোর্ডে ওঠে ২৭ রান। তবে টাইগার বোলাররাও ফিরতে দেরি করেননি।

তৃতীয় ওভারেই অজিদের ওপেনিং জুটি ভাঙেন নাসুম। তাঁর বলে লেগ বিফোর উইকেটের ফাঁদে পড়ে আউট হন জশ ইংলিস। আউট হওয়ার আগে ৬ বলে ১১ রান করেছেন তিনি। এরপর ক্রিজে আরেক ওয়পেনার মিচেল মার্শের সঙ্গী হন কুপার কনোলি। তবে কনোলিকে সেটই হতে দেননি নাহিদ রানা।

বাংলাদেশি এই পেসারের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে সিয়াফ হাসানের মুঠবন্দী হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন কনোলি। ১ রান করে ফিরেন তিনি। এরপর মিচেল মার্শও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি।

মার্শকে ফিরিয়েছেন মুস্তাফিজ। অজি অধিনায়ক ক্রিজে সেট হয়েছিলেন, তবে মুস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে ফিরতে হয় তাকে। এই ক্যাচটিও নিয়েছেন সাইফই। ফেরার আগে মার্শ করেন ১৯ বলে ২০ রান। নাসুমের পর রানা-মুস্তাফিজদের আঘাতে দ্রুতই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অজিরা।

তবে অস্ট্রেলিয়া সেই চাপ সামলে ওঠে ডেভিড-রেনশো জুটিতে। চতুর্থ উইকেটে এ দুজন মিলে গড়েন ৯৭ রানের জুটি। এ জুটি গড়ার পথে দুজনই খেলেছেন আক্রমণাত্মক মেজাজে। ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হলেও রেনশো খেলেছেন ৮৯ রানের অপরাজিত ইনিংস।

২ চার এবং ৪ ছয়ে ৪৫ রান করে ডেভিড সাকলাইনের বলে ক্যাচ দিয়ে আউট হলেও রেনশো শেষ পর্যন্ত মারকুটে ভঙ্গিতেই খেলেছেন। তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন জোয়েল ডেভিস, ষষ্ঠ উইকেটে এ জুটিতে স্কোরবোর্ডে ওঠে ২৪ বলে ৪২ রান। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ গড়ে অস্ট্রেলিয়া। রেনশো ৮৯ এবং ডেভিস ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন রানে। বাংলাদেশের হয়ে ২ টি উইকেট নিয়েছেন নাসুম, ১টি করে উইকেট পেয়েছেন রানা, মুস্তাফিজ, সাকলাইন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com