,

‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ আসছে ঢাকায়, বিক্রি হলো ৫৫০ টাকা কেজি দরে

অনলাইন ডেক্স ।। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের খামারে বিভিন্ন জাতের কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে গোলাপি রঙের এলবিনো জাতের..

অনলাইন ডেক্স ।।

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের খামারে বিভিন্ন জাতের কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের একটি খামারে গোলাপি রঙের এলবিনো জাতের মহিষের নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান কাণ্ড শুরু হয়েছে, বেশ সাড়া ফেলেছে। আকর্ষণীয় এই ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’কে দেখতে দর্শনার্থী ও উৎসুক জনতা ভিড় করছেন। তবে মহিষটি ৫৫০ টাকা কেজিতে লাইভ ওয়েটে বিক্রি হয়েছে ঢাকার এক ব্যক্তির কাছে। ঈদের আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম থেকে মহিষটি ঢাকায় নেওয়া হবে বলে খামার মালিক সূত্রে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম এর মালিক জিয়া উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের মহিষটি দেড় মাস আগে বিক্রি হয়ে গেছে। ঢাকার এক ব্যক্তি মহিষটি ৫৫০ টাকা কেজি দরে লাইভ ওয়েটে কিনে নিয়েছেন, এখন মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি আছে। আগামী ২৩ বা ২৪ মে মহিষটি ঢাকার ওই ক্রেতার কাছে ডেলিভারি করা হবে। সে পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প আমাদের খামারে থাকবে।

জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের পাইকপাড়া এলাকার রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে নানা জাতের গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ কোরবানির পশুর পাশাপাশি দেখা মিলছে ব্যতিক্রমী এই গোলাপি মহিষের। খামারি তার নাম দিয়েছেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রতিদিন আকর্ষণীয় মহিষটি দেখতে আশপাশের উৎসুক জনতা ভিড় করছেন।

মহিষটি দেখতে আসা দর্শনার্থী লুবনা আক্তার বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেখে খুব ভালো লাগছে। মহিষটির মাথার চুল দেখতে অনেকটা ট্রাম্পের মতো। এত মিল কী করে হয় তা বুঝতে পারছি না।’

আরেক দর্শনার্থী রানী আক্তার বলেন, ‘ফেসবুকে মহিষটির ছবি ও ভিডিও দেখে খুব অবাক হয়েছি। মহিষটির হেয়ার স্টাইল দেখতে অনেকটা ট্রাম্পের মতো। তবে ট্রাম্পের মাথা গরম হলেও মহিষটির মাথা ঠান্ডা।’

খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত বছর কোরবানির ঈদের এক মাস পর রাজশাহী সিটি পশুর হাট থেকে মহিষটি কেনা হয়। এরপর খামারে বিশেষ যত্নে লালন-পালন করা হচ্ছে। মহিষটি ইতোমধ্যে লাইভ ওয়েট হিসেবে প্রতি কেজি ৫৫০ টাকায় ঢাকার এক ক্রেতার কাছে বিক্রি করা হয়েছে। ঈদুল আজহার আগে ক্রেতা মহিষটি নিয়ে যাবেন।

এটিকে দুই বেলা খাবার খাওয়ানো ও পরিচর্যা করা হয় উল্লেখ করে খামারের পরিচর্যাকারী কাউসার মিয়া বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রতিদিন দুইবেলা সময় মেনে খাবার দেওয়া হয়। খাদ্য তালিকায় আছে ভুট্টা, সয়াবিন, খইল, গমের ভুসি, তিলের খইল, ধানের কুঁড়া, খড় ও সবুজ ঘাস। এ ছাড়া স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে নিয়মিত পরিচর্যাও করা হয়।’

নাম ‌‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ রাখার কারণ জানতে চাইলে খামারের মালিক জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘মহিষটির মাথার সামনের চুল অনেকটা ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো হওয়ায় আমরা ওর নাম রেখেছি ডোনাল্ড ট্রাম্প। বয়স প্রায় চার বছর। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বভাবও তেমন শান্ত। এটি এলবিনো জাতের মহিষ। এই জাতের মহিষ সাধারণত শান্ত প্রকৃতির হয়। উত্ত্যক্ত না করলে সহজে আক্রমণাত্মক আচরণ করে না। খুব শান্ত স্বভাবের। এটি গোলাপি বর্ণের হওয়ায় অনেকে দেখতে আসেন। ওজন প্রায় ৭০০ কেজি। লাইভ ওয়েটে ৫৫০ টাকা দরে প্রায় দেড় মাস আগে ঢাকার এক ব্যক্তি কিনে নিয়েছেন। ঈদের আগে তিনি নিয়ে যাবেন।’

খামার কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সাল থেকে এই খামার পরিচালনা করে আসছেন খামারি। এ বছর দুই শতাধিক কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে। মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া রয়েছে। এগুলো বিক্রি হয়ে গেছে। তবে সবার আগ্রহের কেন্দ্র এখন গোলাপি মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। প্রতিদিন অসংখ্য কৌতূহলী মানুষ শুধু একনজর দেখতে ভিড় করছেন খামারটিতে।

এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এবার নারায়ণগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা এক লাখ তিন হাজার। আর ছয় হাজার ৫৩৫টি খামারে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার। সে হিসাবে ১০ হাজার পশু উদ্বৃত্ত আছে।’

‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের’ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি খামারে গোলাপি রঙের এলবিনো জাতের মহিষের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প রাখা হয়েছে বলে শুনেছি। তবে এটি বিরল জাতের নয়। দেশি মহিষ।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About the Author

Easy WordPress Websites Builder: Versatile Demos for Blogs, News, eCommerce and More – One-Click Import, No Coding! 1000+ Ready-made Templates for Stunning Newspaper, Magazine, Blog, and Publishing Websites.

BlockSpare — News, Magazine and Blog Addons for (Gutenberg) Block Editor

Search the Archives

Access over the years of investigative journalism and breaking reports