শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
Logo

প্রিন্সেস ডায়ানার ভাইয়ের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে ৫ চাঞ্চল্যকর দাবি

/ ১৪ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

প্রিন্সেস ডায়ানার ভাই আর্ল চার্লস স্পেন্সারের নতুন বই ‘সোয়ান সং’ প্রকাশের আগেই ব্রিটিশ রাজপরিবারকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বইটির কিছু অংশ প্রকাশ্যে আসার পর ডায়ানার দাম্পত্য জীবন, তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং ডায়ানার মৃত্যুর পরের ঘটনাবলি নিয়ে বেশ কিছু দাবি সামনে এসেছে।

বইটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। তবে প্রকাশক পেঙ্গুইন র‍্যান্ডম হাউস জানিয়েছে, ডেইলি মেইল-এ প্রকাশিত উদ্ধৃতিগুলো বইটিরই অংশ।

বিষয়টি নিয়ে বিরল প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেসও। রাজপ্রাসাদের এক মুখপাত্র বলেন, তারা সাধারণত কোনো বই নিয়ে মন্তব্য করে না। তবে তিনি উল্লেখ করেন, ভাই বা বোন হারানোর শোক দীর্ঘ সময় পরও মানুষের যুক্তিবোধ, বিচারক্ষমতা ও স্মৃতিকে প্রভাবিত করতে পারে।

বইটিতে উঠে আসা আলোচিত পাঁচটি দাবির মধ্যে রয়েছে—

ডায়ানার মৃত্যুর খবর শুনে চার্লস ‘উচ্ছ্বসিত’ ছিলেন

১৯৯৭ সালের ৩১ আগস্ট ডায়ানার মৃত্যুর পর তৎকালীন প্রিন্স অব ওয়েলস চার্লসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের দাবি করেছেন স্পেন্সার। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ডায়ানার গাড়ি দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর তিনি বোন জেনের সঙ্গে কয়েক দফা ফোনে কথা বলেন। পরে ডায়ানার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে চার্লসের সঙ্গেও ফোনে কথা হয় তার।

স্পেন্সারের দাবি, ফোনের ওপারে চার্লসের কণ্ঠ তার কাছে ‘লটারি জেতা ব্যক্তির মতো উচ্ছ্বসিত’ মনে হয়েছিল। তার ধারণা, চার্লসের মনে হয়ত প্রথমেই এসেছিল—ডায়ানার মৃত্যুর ফলে তিনি তার ভালোবাসার নারীকে বিয়ে করার সুযোগ পাবেন। ডায়ানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশের বিষয়টি যেন তার কাছে তখন মুখ্য ছিল না—এমনটাই দাবি স্পেন্সারের।

‘আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব’

ডায়ানার শেষকৃত্যে প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারির মায়ের কফিনের পেছনে হাঁটা উচিত কি না, তা নিয়েও স্পেন্সার ও চার্লসের মধ্যে তর্ক হয়েছিল বলে বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। স্পেন্সারের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে চার্লস ক্ষুব্ধ হয়ে ডায়ানাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের কথা বলেন। এরপর তিনি নাকি স্পেন্সারকে বলেন, ‘নিশ্চিত থাকুন, আমরা খুব শিগগিরই তাকে ভুলে যাব।’

এই মন্তব্য শুনে তিনি হতবাক হয়ে ফোন কেটে দিয়েছিলেন বলে লিখেছেন স্পেন্সার। ডায়ানার শেষকৃত্যে তার কফিনের পেছনে হাঁটার অভিজ্ঞতাকে ‘ভয়াবহ’ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ডায়ানার মৃত্যুর পর হ্যারি যথেষ্ট যত্ন পাচ্ছিলেন না বলেও দাবি করেছেন স্পেন্সার।

বিয়ের আগেই সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন ডায়ানা

চার্লস ও ডায়ানার বিয়ের আগের সময়কার সম্পর্ক নিয়েও বেশ কিছু তথ্য তুলে ধরেছেন স্পেন্সার। তার দাবি, চার্লসের ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের ২১তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে চার্লস ডায়ানার প্রতি প্রায় কোনো আগ্রহ দেখাননি। ঘটনার পর ডায়ানা তাদের বাবা স্পেন্সারকে জানিয়েছিলেন, তিনি আর বিয়ে করতে চান না—এমন দাবিও রয়েছে বইয়ে।

স্পেন্সারের আরও দাবি, এর আগে ডায়ানা চার্লসের কেনা একটি ব্রেসলেট দেখতে পেয়েছিলেন, যা তার বর্তমান স্ত্রী কুইন ক্যামিলার জন্য কেনা হয়েছিল। এ ছাড়া বিয়ের আগের দিন চার্লস তাকে বলেছিলেন, ডায়ানাকে বিয়ে করতে পেরে তিনি খুশি, তবে তার প্রেমে পড়েননি—ডায়ানা এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে এমন কথা বলেছিলেন বলেও বইয়ে উল্লেখ করেছেন স্পেন্সার।

 

ডায়ানার ওজন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন চার্লস

বাগদানের ঘোষণার কয়েক দিন পর চার্লস ডায়ানার কোমর ধরে তার ওজন নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্পেন্সার। তার ভাষ্য অনুযায়ী, চার্লস নাকি ডায়ানাকে বলেছিলেন, ‘ওহ, এখানে তো একটু মোটা হয়ে গেছ, তাই না?’

স্পেন্সারের দাবি, বুলিমিয়ায় ভোগা ডায়ানার জন্য মন্তব্যটি ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক। তিনি লিখেছেন, ডায়ানা তাকে জানিয়েছিলেন—বাগদান থেকে বিয়ের সময় পর্যন্ত তার কোমরের মাপ ২৯ ইঞ্চি থেকে কমে ২৩ দশমিক ৫ ইঞ্চিতে নেমে এসেছিল।

ডায়ানাকে ‘এইচআরএইচ’ উপাধি ফিরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন রানি এলিজাবেথ

ডায়ানার শেষকৃত্যের দিন তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে ‘এইচআরএইচ’ বা ‘হার রয়্যাল হাইনেস’ উপাধি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন স্পেন্সার। চার্লসের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ডায়ানা এই উপাধি হারিয়েছিলেন। একইভাবে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সারাহ ফার্গুসনও ‘এইচআরএইচ’ উপাধি হারান।

স্পেন্সারের দাবি, উপাধি হারানোর বিষয়টি ডায়ানাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছিল এবং তিনি সিদ্ধান্তটিকে ‘তুচ্ছ ও প্রতিহিংসাপরায়ণ’ হিসেবে দেখতেন। রানি এলিজাবেথের প্রস্তাবকে ডায়ানার মৃত্যুর পর এক ধরনের ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ হিসেবে দেখেছিলেন স্পেন্সার। সে কারণেই তিনি সেটি গ্রহণ করেননি বলে দাবি করেছেন তার ভাই।

বইটি প্রকাশের আগেই এসব দাবি সামনে আসায় ডায়ানার সঙ্গে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্পর্ক এবং তার মৃত্যুর পরের ঘটনাগুলো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বইয়ের অধিকাংশ বক্তব্যই স্পেন্সারের ব্যক্তিগত স্মৃতি, উপলব্ধি ও বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে করা দাবি—এ বিষয়টিও মনে রাখা জরুরি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com