নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বহিরাগতদের নিয়ে র্যালি করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির ‘অদম্য জুলাই’ শীর্ষক একটি র্যালি বের করলে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, র্যালিতে বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আপত্তি জানালে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে কয়েক দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আশিক আহমেদ অভিযোগ করেন, শিবির বহিরাগতদের নিয়ে লাঠির সঙ্গে পতাকা বেঁধে ক্যাম্পাসে মিছিল করেছে। তারা বহিরাগতদের ছাড়া কর্মসূচি পালনের অনুরোধ করলে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে ছাত্রদলের পাঁচ থেকে ছয়জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে ভিসি গেটের দিকে যাওয়ার সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে পাঁচ জনের মত নেতাকর্মী আহত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উপস্থিতিতেই এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং প্রক্টর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও হামলা থামেনি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে উপাচার্যের কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে উভয় পক্ষই সংঘর্ষের জন্য একে অপরকে দায়ী করেছে।
জানা গেছে, এ ঘট্নায় বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। আহত শিবির নেতা-কর্মীদের মধ্যে আরও রয়েছেন, সাব্বির হোসেন (বাংলা বিভাগ), আলামিন (কোস্টাল), হাফিজ সিদ্দিক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান), হেলাল আহমেদ (বাংলা), আবদুল্লাহি বাকি (ইংরেজি), আল মামুন সিয়াম (কোস্টাল), তায়েফ (অর্থনীতি),শারাফাত সিফাতসহ (সমাজবিজ্ঞান বিভাগ) আরও ৫-৬ জন।
অন্যদিকে শিবিরের পাল্টা হামলায় কয়েকজন ছাত্রদলকর্মী আহত হন। আহত ছাত্রদল কর্মীরা হলেন ইমরান, জাহিদ, সিফাত, তরিকুল।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘শিবির বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাষ্ট্রেকে অস্থিতিশীল করতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদল তাদেরকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছ। গুপ্ত সমকামী সন্ত্রাসী জঙ্গি সংগঠনের কোন স্থান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ববি ছাত্রশিবির ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ‘‘অদম্য জুলাই’’ মিছিল নিয়ে শান্তিপূর্নভাবে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করছিল। এসময় ছাত্রদল কর্মীরা সন্ত্রাসী কায়দায় আমাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমাদের রক্তাক্ত করে। আজকের হামলা ছিলো পূর্বপরিকল্পিত। আমরা এর বিচার চাই।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বরিশাল মেট্রোপলিটনে এডিসি বেলাল হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা শুনে আমরা এখানে এসেছি। ঘটনার পরপর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আমরা দুই পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান করেছি।