শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:১৯ পূর্বাহ্ন
Logo

বৃষ্টির অজুহাতে বাজারে আগুন, স্বস্তি নেই ক্রেতাদের!

/ ৩৯ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

আজ বৃষ্টি কাল খড়া নানা অজুহাতে বরিশালের কাঁচাবাজারগুলোতে হঠাৎ করেই বেড়েছে সবজির দাম। গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি এবং সরবরাহ ঘাটতির কথা বলে বিক্রেতারা প্রায় প্রতিটি সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন। বরিশালের প্রতিটা জায়গায় তৈরি হয়েছে জলজট। এর কারনে বাজারেও জমেছে পানি। এ সুযোগ কাজে লাগিশে জরুরি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা। তবে স্বস্তির এই চিত্র নেই আমিষের বাজারে। ডিম, মাছ ও মুরগির ঊর্ধ্বমুখী দামে বাড়তি চাপ পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। শুক্রবার (১০ জুলাই) বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

এসব কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বাজারগুলোতে করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল প্রকারভেদে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন প্রকারান্তরে কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০ থেকে ১২০ টাকা, কচুর লতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, সজনে ১৬০ থেকে ২০০ টাকা এবং ধুন্দল হাইব্রিড ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ৫০ থেকে৭০ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
অধিকাংশ সবজিই ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

তবে আমদানিনির্ভর টমেটোর দাম এখনও অনেক বেশি। প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতার নাগালের বাইরে। এছাড়া বৃষ্টির প্রভাবে বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৭০ থেকে ১০০ টাকা। পেঁপে ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মুরগির বাজারেও রয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। পাকিস্তানি সোনালি মুরগির কেজি ৩২০-৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩০-৩৪০ টাকা। পাকিস্তানি হাইব্রিড জাতের মুরগি ২৮০-৩০০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৩১০-৩২০ টাকায়। পাকিস্তানি লেয়ার মুরগির দাম গত সপ্তাহের মতোই ৩৩০-৩৪০ টাকা রয়েছে। আর দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা কেজি দরে।

মুরগি বিক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতা কিছুটা কম এসেছে। তবে মুরগির সরবরাহ স্বাভাবিক আছে। খামার থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে, তাই খুচরা বাজারেও দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে।’’

এদিকে মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, ভেটকি ৬০০ থেকে ৮৫০ টাকা, কৈ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শোল ৭০০ টাকা কেজি দরে। ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। আর এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম আকাশচুম্বি। তবে চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, শিং ও মাঝারি আকারের রুইয়ের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে।

মাছ বিক্রেতা মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘টানা বৃষ্টির কারণে বাজারে ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে সর্বত্র।
তবে মাছের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট নেই। কিছু দেশি মাছ ও ইলিশের সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় সেগুলোর দাম বেশি। চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ ও মাঝারি রুইয়ের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। আমরা পাইকারি বাজার থেকে যে দামে মাছ কিনছি, সেই অনুযায়ীই বিক্রি করছি।’’

বাজারগুলোতে গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে এবং খাসির মাংস ১২০০/১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

মসলাজাতীয় পণ্যের মধ্যে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫/৪০ টাকায়। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, আমদানিকৃত রসুন ১৪০ থেকে ১৬০ টাকা এবং আদা ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ক্ষেত নষ্ট হয়েছে এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বরিশালে সবজির ট্রাক কম আসছে। ফলে বাজার কিছুটা চড়া রয়েছে।

এদিকে বাংলা বাজারের নিয়মিত ক্রেতা জয়নাল আবেদীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আকাশে মেঘ দেখলেই পণ্যের দামের পারদ ওপরে উঠে যায়। বৃষ্টি হলে নাকি মাল আসে না, অথচ বাজারে এসে দেখি কোনো সবজির ঘাটতি নেই। সব দোকানেই ভরপুর পণ্য, শুধু দামটাই বাড়তি।

সাধারণ ক্রেতা এবং বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৃষ্টির কারণে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাত ঘটলেও বাজারে যে হারে দাম বাড়ানো হয়েছে, তা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। নিয়মিত এবং কঠোর বাজার মনিটরিং না থাকার কারণেই অসাধু ব্যবসায়ীরা আবহাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টির মধ্যেও বিভিন্ন জেলা থেকে নিয়মিত সবজি আসায় সরবরাহে কোনও সংকট তৈরি হয়নি। তবে খামার পর্যায়ে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং কিছু ক্ষেত্রে সরবরাহ কম থাকায় ডিম ও মুরগির দাম তুলনামূলক বেশি রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে দেশি মাছের সরবরাহ কম থাকায় বেশ কয়েকটি মাছের দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন বাজেট কার্যকরের প্রভাবে মসলাসহ কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে বাজারে আরও কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করছেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com