অনলাইন ডেক্স ।।
ইরানের গবেষকেরা পরীক্ষাগারে মানুষের জীবিত স্নায়ুকোষ (নিউরন) ব্যবহার করে একটি কৃত্রিম মস্তিষ্ক তৈরি করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই কৃত্রিম মস্তিষ্ক তথ্য থেকে শিখতে পারে এবং মানুষের মস্তিষ্কের মতো স্নায়বিক সংযোগ (নিউরাল নেটওয়ার্ক) গড়ে তুলতে সক্ষম।
ইরানের কগনিটিভ সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজিস ডেভেলপমেন্ট টাস্কফোর্সের সচিব আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসি দেশটির সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে জানান, ইরানি গবেষকেরা মানবদেহের বাইরে স্নায়ুকোষ (নিউরন) বৃদ্ধি বা কালচার করার প্রযুক্তি আয়ত্ত করেছেন। এর মাধ্যমে নিউরনগুলোর মধ্যে সিন্যাপটিক সংযোগ তৈরি করে শেখার সক্ষমতাসম্পন্ন নিউরাল নেটওয়ার্ক গঠন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, এই সাফল্য ভবিষ্যতে মস্তিষ্কের কোষভিত্তিক কম্পিউটার প্রসেসর তৈরির ভিত্তি তৈরি করবে। ইতোমধ্যে একটি দেশীয় জ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এ প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক একটি প্রোটোটাইপও তৈরি করেছে।
আতাউল্লাহ পুর-আব্বাসির দাবি, এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি জৈবিক প্রসেসর প্রচলিত সিলিকনভিত্তিক প্রসেসরের তুলনায় তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ প্রায় ১০ লাখ গুণ পর্যন্ত কমিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সুবিধার কারণে জৈবিক প্রসেসর এখন বিশ্বজুড়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিতে পরিণত হয়েছে। ফলে পরবর্তী প্রজন্মের কম্পিউটিং প্রযুক্তি উন্নয়নে বিভিন্ন দেশ ব্যাপক গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
যদিও প্রযুক্তিটি এখনও বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত নয়, তবুও ইরান এ প্রযুক্তি নিজস্বভাবে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা অর্জন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
পুর-আব্বাসি বলেন, এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশ বিশ্বের অগ্রণী দেশগুলোর সঙ্গে সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে।
অর্গানয়েড ইন্টেলিজেন্স বা বায়োলজিক্যাল কম্পিউটিং নামে পরিচিত এই প্রযুক্তিতে জীবিত মানব নিউরন ব্যবহার করে এমন কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরি করা হয়, যা মানুষের মস্তিষ্কের মতো সমান্তরালভাবে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং তুলনামূলকভাবে খুব কম শক্তি ব্যবহার করে।
তথ্য সূত্র : যুগান্তর,,,,,