শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:২২ পূর্বাহ্ন
Logo

লঘুচাপ দুর্বল হলেও দক্ষিণাঞ্চলে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া অব্যাহত

/ ১৭ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিনত হয়ে ভারতের উত্তর-পশ্চিম প্রদেশে পৌছে দুর্বল হয়ে পড়লেও তার প্রভাবে শুক্রবারও বরিশালে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজ করছিলো। সকাল ৯টার পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় আরো প্রায় ১শ মিলিমিটার সহ গত ৬ দিনে প্রায় ২শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বরিশালে। শুক্রবার দিনভর আরো ২০ মিলি বৃষ্টিপাতে বরিশালের জনজীবন প্রায় অচল ছিল। গত ৫ জুলাই থেকে লাগাতার বর্ষণে বরিশাল সহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত। শুক্রবার সকাল ১১টা ১৪ মিনিটে বরিশালের আকাশে একবার সূর্য উদ্ভাসিত হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই তা কালো মেঘে ঢেকে যায়। দুপর ১টা থেকে প্রবল বর্ষণে অনেক মুসুল্লী জুমার নামাজ আদায়ে মসজিদে যেতে পারেননি।
প্রায় ৯ লাখ হেক্টরে রোপা আমন আবাদের লক্ষ্যে দেড় লাখ হেক্টরের বীজতলার বেশীরভাগই এখন ঝুঁকির কবলে। গ্রীষ্মকালীন সবজির অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইতোমধ্যে। এতদিন বৃষ্টির অভাবে বীজতলা তৈরী অসম্ভব হলেও এখন লাগাতার বৃষ্টির ফলে প্রস্তুতকৃত বীজতলা ভেসে যাচ্ছে।
দুর্বল লঘুচাপের প্রভাবে বরিশাল সংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্য বিরাজ করছে। মৌসুমী বায়ুর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমীবায়ু মূল ভূ-খন্ডে সক্রিয় থাকলেও বরিশাল উপকূলের উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে বলে আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে।

গ্রীষ্ম পেরিয়ে চলতি বর্ষা মৌসুমেও বরিশালে বৃষ্টিপাতের আকালের মধ্যে আষাঢ়ের মধ্যভাগের পরে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষভাগ থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বরিশালে প্রায় ২শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অথচ সদ্য সমাপ্ত জুনেও বরিশালে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল প্রায় ৪৩ ভাগ। মে মাসে ঘাটতির পরিমান ছিল প্রায় ৪৯ ভাগের কাছে। এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৬৯ভাগ বেশী বৃষ্টি হলেও মার্চে তা ছিল ৪৯% কম।
আবহাওয়া বিভাগ চলতি মাসে বরিশালে স্বাভাবিক ৫৩০ মিলিমিটারের স্থলে ৫৩৫-৫৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা বললেও প্রথম ১০ দিনে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় আড়াইশ মিলিমিটার। অপরদিকে শুক্রবারও দ্বিতীয়দিনের মত বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলের সবগুলো নদী বন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে।

অনাবৃষ্টি আর অতি বৃষ্টির সাথে লাগাতার বর্ষণে বরিশাল সহ সন্নিহিত এলাকাজুড়ে কৃষকরা আমন বীজতলা তৈরী করতে নানা বিড়ম্বনায় পড়ছেন। চলতি খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলের প্রায় প্রায় ৯ লাখ হেক্টরে আমন আবাদের মাধ্যমে ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের প্রস্তুতি শুরু করলেও বৈরী আবহাওয়া মারাত্মক অন্তরায় সৃষ্টি করছে। অনাবৃষ্টির পরে অতি বর্ষণে আমন বীজতলা তৈরী নিয়ে নানামুখি সংকট চলছে। বীজ না থাকলে রোপনের প্রশ্ন অবান্তর। তবে আবহাওয়া বিভাগ থেকে ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবনতা হ্রাস পাবার কথা জানিয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com