শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের কে কোন মন্ত্রণালয় পেলেন বরিশাল ৮ মামলার ওয়ারন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি গ্রেফতার চরমোনাইতে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফর নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: প্রেস সচিব বরিশালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহ’র নেতৃত্বে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় আরও চারজন যুক্ত হচ্ছেন, রাতে শপথ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে দেওয়া হলো গর্ভপাতের ওষুধ, চিকিৎসকের অস্বীকার! ওয়েব ফিল্মে মৌ পিরোজপুরে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ঐতিহাসিক মারাকানায় হবে বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ

গত বিশ্বকাপ সম্প্রচারে লুটপাট হয়েছে, এবার খরচ উঠে ঘাটতি ৪-৫ কোটি টাকা: তথ্যমন্ত্রী

/ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব কেনার নামে মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ ‘লুটপাট’ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বিপরীতে, বর্তমান সরকার ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব সরাসরি আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা (ফিফা) থেকে কেনার কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ সম্প্রচার-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তথ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার ফিফার কাছ থেকে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের মিডিয়া রাইটস সরাসরি ৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন (৩৮ লাখ ৫০ হাজার) মার্কিন ডলারে কিনেছে। পরবর্তীতে দেশের চারটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে সাব-লাইসেন্সিংয়ের মাধ্যমে এই ব্যয়ের সিংহভাগ অর্থই তুলে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘সরাসরি ক্রয়ের কারণে এবার বিশ্বকাপ সম্প্রচারে সরকারের ঘাটতি রয়েছে মাত্র ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা। এই ঘাটতিটুকুও অংশীদারদের সাথে রাজস্ব ভাগাভাগির (রেভিনিউ শেয়ারিং) মাধ্যমে পুরোপুরি তুলে আনার প্রক্রিয়া চলছে।’

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সম্প্রচার ব্যয়ের সঙ্গে এবারের প্রক্রিয়ার তুলনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় ফিফার কাছ থেকে একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক কোম্পানি সম্প্রচার স্বত্ব কিনেছিল। এরপর বাংলাদেশের তমা কনস্ট্রাকশন নামের একটি প্রতিষ্ঠান সেই স্বত্ব বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) কাছে ৯৮ কোটি টাকায় বিক্রি করে।’

তিনি আরও দাবি করেন, একই সঙ্গে স্যাটেলাইট সম্প্রচার স্বত্ব ২২ কোটি টাকা এবং ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। সব মিলিয়ে সে সময় প্রায় ১৪০ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছিল।

মন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ফিফা সে সময় সম্প্রচার স্বত্ব বাবদ পেয়েছিল মাত্র ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। অথচ এ দেশে লেনদেন হয়েছে ১৪০ কোটি টাকা। জনগণের করের ৯৮ কোটি টাকা বিটিভি তমা কনস্ট্রাকশনকে দিয়েছিল। এটি তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের আমলে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের নামে দুর্নীতির একটি বড় উদাহরণ।’

২০২২ সালের বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় সংঘটিত এই আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম জানান, এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে বিটিভির ভেতরে ইতিমধ্যে একটি প্রাথমিক বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক) একটি প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে যোগ করেন, বিভাগীয় তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে দুদকের সাথে যোগাযোগ করবে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

জহির উদ্দিন স্বপন জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পষ্ট নির্দেশনা ছিল—দেশের মানুষকে বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ করে দিতে হবে, তবে সে জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো যাবে না। সেই নীতি অনুসরণ করেই সরাসরি ফিফার সঙ্গে দরকষাকষি করা হয়েছিল।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব শাহ আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সময় বিভিন্ন পর্যায় থেকে সাইবার হামলার (হ্যাকিং) চেষ্টা হয়েছিল। তবে বিটিভি ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীদের কারিগরি দক্ষতায় তা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। এর ফলে কেবল বৈধভাবে স্বত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোই খেলা সম্প্রচার করতে পেরেছে।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মতো শীর্ষ দলগুলোকে বাংলাদেশে এনে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে আলোচনা করে এই প্রস্তাবের বাস্তবতা খতিয়ে দেখা হবে।

পাশাপাশি দেশের তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের চিহ্নিত করে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় আনা এবং জাতীয় পর্যায়ের কৃতী অ্যাথলেটদের জন্য বিশেষ ‘স্পোর্টস কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ তথ্য মন্ত্রণালয় ও বিটিভির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com