বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ০২:৫০ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
বরিশালে মাদক মামলায় দুই পা হারানো দণ্ডিত আসামি কারাগারে পাগলা কুকুরের তাণ্ডবে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী, শিশুসহ আহত ১০ পাচার ও বাণিজ্যিক যৌন শোষণের ঝুঁকিতে থাকা ২৫ জন শিশুকে ফ্যামিলি কিডস বক্স বিতরণ ব্রিজে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি, ভেঙে দিল প্রশাসন হাসিনার সাক্ষাৎকার প্রচার: সংবাদমাধ্যমগুলোকে সতর্ক করা হবে, জানালেন তথ্য উপদেষ্টা বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের নতুন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ নিখোঁজের ৩ দিন পর স্বামীর মাটিচাপা লাশ উদ্ধার, স্ত্রী আটক কাউনিয়া থানার অভিযানে ৮০০ পিস ইয়াবাসহ ‘মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ব্র্যাকের আয়োজনে কমিউনিটি-ভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শীর্ষক প্রাক-বাজেট সংলাপ শেষ বত্রিশের বাধা কি পেরোতে পারবে ব্রাজিল

বরিশালে মাদক মামলায় দুই পা হারানো দণ্ডিত আসামি কারাগারে

/ ১৮ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই পা হারানো মাদক মামলায় দণ্ডিত এক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে বরিশালের একটি আদালত।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বরিশালের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামির পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক পলি আফরোজ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রেজাউল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন- গৌরনদী উপজেলার ভীমের পাড় এলাকার বাসিন্দা ফারুক সরদারের ছেলে রফিকুল ইসলাম সরদার (৩৫)।

আদালত ও মামলার বরাতে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বন্দরের এবি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় রফিকুল ইসলাম সরদারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রফিকুলের কাছ থেকে ৬০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়।

উজিরপুর মডেল থানা পুলিশ দুজনকে আসামি করে মামলা করে। রফিকুল পরে জামিন নিয়ে পলাতক হন। ২০২৫ সালের ৩০ জুলাই রফিকুলের অনুপস্থিতিতে আদালত তাকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়।

আসামি রফিকুলের চাচা জাকির সরদার বলেন, মামলা চলাকালে রফিকুল সৌদি আরবে যান। সেখানে জানুয়ারি মাসে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হয়। তার দুটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এ ছাড়া তার হাত এবং শরীরের পেছনে মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত ঝলসে যায়। তিনি স্বাভাবিক চলাচল করতে পারেন না।

তিনি বলেন, “রফিকুল সৌদি আরবে চিকিৎসা শেষে গত মাসে দেশে ফিরে এসেছে। দুদিন আগে বাসায় পুলিশ আসে। তখন তার এই অবস্থা দেখে আমাদের নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় পুলিশ। তার এমন শারীরিক অবস্থায় জামিন পাবে এমন আশায় আজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু বিচারক জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন।”

রফিকুলের আরেক চাচা তরিকুল সরদার বলেন, ওর সেবা করতে চারজন লোক প্রয়োজন। এ ছাড়া ওর পায়ে ইনফেকশন হয়েছে। একা কিছু করতে পারে না। এই অবস্থায় জেলে গেলে তো না খেয়ে ও সংক্রমণে আরও গুরুতর অবস্থা হয়ে যাবে।”

রফিকুলের আইনজীবী একরামুজ্জামান জয় বলেন, রফিকুল চলাচল অক্ষম একজন মানুষ। এরকম একজন ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা আবেদন করেছিলাম যে, একটা অন্তর্বর্তীকালীন জামিন বিবেচনা করার জন্য। কিন্তু আদালত সেটা বিবেচনা করেনি। তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। আমরা উচ্চ আদালতে যাব। হয়ত ন্যায়বিচার পাব।”

আদালতের বেঞ্চ সহকারী রেজাউল ইসলাম বলেন, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করেছে। আইন অনুযায়ী বিচারক তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আইনে তাকে মুক্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা উচ্চ আদালত বিবেচনা করতে পারে।”

বরিশাল হাজতখানার এএসআই মো. আলমগীর বলেন, আসামিকে সাধারণ কয়েদির মত রাখার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে আসামিকে দেখে কারা হাসপাতালে রাখার অনুমতি চেয়েছি। বিচারক তাকে কারা হাসপাতালে রাখার অনুমতি দিয়েছেন। সেই পরোয়ানায় তাকে কারাগারে হস্তান্তর করা হয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com