অনলাইন ডেক্স ।।
এল নিনো ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে রূপ বদলাচ্ছে বর্ষা। এর প্রভাবে স্বল্প সময়ের মধ্যে একাধিকবার অতিভারী বর্ষণের সম্মুখীন হতে হচ্ছে দেশকে। জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হলেও গড়ে বর্ষাকালে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত হবে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, জুন মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের তুলনায় ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। আবার জুলাইয়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ কারণে বলা হচ্ছে, পুরো বর্ষা মৌসুমে গড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হবে।
অস্বাভাবিক অতিবৃষ্টির কারণ জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ বজলুর রশিদ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে গড় বৃষ্টিপাত কম হচ্ছে। এবার জুলাইয়ে যেসব দিন ঝড় ছিল, সেসব দিনই বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত দুই বছরের হিসাব দেখলে দেখা যাবে, অল্প সময়ের মধ্যে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণেই ভারী বৃষ্টির প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জুনে বৃষ্টি কম হয়েছে, আর জুলাইয়ে স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন থেকে ধীরে ধীরে বৃষ্টিপাত কমবে। জুনে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম এবং জুলাইয়ে ২০ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। ফলে গড় হিসাব করলে এখনও প্রায় ১০ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম রয়েছে। আগস্টে খুব বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা কম।
এবার বর্ষায় কোন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সেখানে গড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।
শ্রাবণ মাসে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টি হবেই। তবে অস্বাভাবিক বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
অতিবৃষ্টির মূল কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এবার এল নিনোর প্রভাব, সাগরে একাধিক লঘুচাপ, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা এবং বর্ষার চরিত্র পরিবর্তনের কারণে অল্প সময়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষার শুরুতে বৃষ্টি কম হলেও পরে বেশি হচ্ছে। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্তও বৃষ্টি হচ্ছে। অর্থাৎ গত কয়েক বছর ধরেই বর্ষা তার আচরণ পরিবর্তন করছে।
তিন মাসের জন্য দেওয়া পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, জুলাই মাসে ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৭১ মিলিমিটার। পূর্বাভাস ছিল ৩৬০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার। ময়মনসিংহে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৩৭ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৪৩০ থেকে ৪৫০ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৬৯৪ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৬৮০ থেকে ৭২০ মিলিমিটার। সিলেটে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৩৬ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৫৩০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার। রাজশাহীতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩১১ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৩০০ থেকে ৩৩০ মিলিমিটার। রংপুরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪০৯ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৪০০ থেকে ৪২০ মিলিমিটার। খুলনায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৬২ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৩৫০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার। বরিশালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫৩৫ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ছিল ৫৩০ থেকে ৫৫০ মিলিমিটার।
আগস্ট মাসের জন্য দেওয়া বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০১ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ২৮০ থেকে ৩২০ মিলিমিটার। ময়মনসিংহে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫৭ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩৪০ থেকে ৩৬০ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৫০৫ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৪৮০ থেকে ৫১০ মিলিমিটার। সিলেটে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৪৭০ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৪৬০ থেকে ৪৮০ মিলিমিটার। রাজশাহীতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৫১ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ২৪০ থেকে ২৬০ মিলিমিটার। রংপুরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৫৫ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩৪০ থেকে ৩৬০ মিলিমিটার। খুলনায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৮৭ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার। বরিশালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৭৯ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩৭০ থেকে ৩৯০ মিলিমিটার।
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য দেওয়া বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৬৩ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ২৫০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার। ময়মনসিংহে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩২১ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩১০ থেকে ৩৩০ মিলিমিটার। চট্টগ্রামে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৪৫ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩৩০ থেকে ৩৬০ মিলিমিটার। সিলেটে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৭১ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩৬০ থেকে ৩৮০ মিলিমিটার। রাজশাহীতে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৬৭ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ২৬০ থেকে ২৮০ মিলিমিটার। রংপুরে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩৮৩ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩৭০ থেকে ৩৯০ মিলিমিটার। খুলনায় স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২৭৭ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ২৭০ থেকে ২৯০ মিলিমিটার। বরিশালে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩২৮ মিলিমিটার এবং পূর্বাভাস ৩২০ থেকে ৩৪০ মিলিমিটার।