নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে মাধ্যমিকের ফলাফলে অভিভাবক মহলে উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা বাড়ছে। নতুন সরকারের আমলের প্রথম এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার গত বছরের চেয়ে প্রায় ৪ ভাগ বেড়ে ৬০.৪৫%-এ উন্নীত হয়েছে, কিন্তু এ পরিসংখ্যান সন্তুষ্ট করতে পারছে না অভিভাবক মহলকে।
গত বছরের এসএসসি পরিক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৫৬.৩৮%। তবে এবছর পাসের হার গত বছরের চেয়ে ৩.৯৮% বেশি হলেও জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণের সংখ্যা ২,৭৭৮জন। যা মোট পরিক্ষার্থীর মাত্র ৩.৪৫%। অথচ গত বছরও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ নিয়ে উত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল ৩,১১৪ ।
কোচিং বানিজ্যনির্ভর এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থা এক শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রী ও কতিপয় অভিভাবককে সাময়িক স্বস্তি দিলেও ক্রমেই তা এ অঞ্চলের মত সারা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে যে ধ্বংস করে দিচ্ছে তা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে।
এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমুহ থেকে অংশ গ্রহন করা ৮০,৪৫৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে মেয়েদের পাসের হার যেখানে ৬৬.৬৫%, সেখানে ছেলেদের হার ১৩ ভাগ পেছনে ৫৩.১৫%। গতবছর এ শিক্ষা বোর্ডে ছেলেদের পাসের হার ছিল ৪৮.৪৫%। পক্ষান্তরে মেয়েদের ছিল প্রায় ১৫% বেশী, ৬৩.৩৮%।
এবারের মাধ্যমিকের ফলাফলে পাসের হার গত বছরের চেয়ে ৩.৯৭ বেশি বলে বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বেশিরভাগ শিক্ষক। বিষয়টি নিয়ে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের মাঝেও চরম হতাশা নেমে এসেছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই খুশির পরিবর্তে কান্নার রোল চোখে পড়েছে।
এবার জিপিএ-৫ পাওয়া পরিক্ষার্থীদের মধ্যে ছেলেদের সংখ্যা ১,১৯৩ হলেও মেয়েদের সংখ্যাটা ১,৫৮৫। যা গতবছর ছিল যথাক্রমে ১,৪২৯ ও ১,৬৮৫। আর এবারের মাধ্যমিকে সব বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া ২,৭৭৮ পরিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগেই সংখ্যাটা ২,৫৮৬। মানবিক বিভাগে ৪৮ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণের সংখ্যা ২৬৮। যারমধ্যে মেয়েদের সাফল্যের সংখ্যাই ২২৯। অপরদিকে এবার ব্যবসা শিক্ষা শাখায় প্রায় ১৭ হাজার পরিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২৪ জন জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।
মাধ্যমিক পরীক্ষায় শতভাগ উত্তীর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত বছরের ১৭টি থেকে ১৫টিতে হ্রাস পাবার বিষয়টিকে এ অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম করুন চিত্র হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষক মহল।
এবার শতভাগ পাসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বরিশালের ৭টি, পিরোজপুরে ৩ এবং বরগুনা ও ভোলার দুটি করে এবং ঝালকাঠী জেলার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। শতভাগ পাসের তালিকায় পটুয়াখালী জেলার কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই।
পাসের হারে পিরোজপুরের ৭০.৭২% ছাত্র-ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়ে বোর্ডের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে। গত বছরের সর্বনিম্ন থাকা বরগুনা এবার ৬২.৯১% পাস করে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে। আর ৬১.৭২% নিয়ে বিভাগীয় সদর বরিশালকে গত বছরের ২য় অবস্থান থেকে এবার তৃতীয় স্থানে নেমেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে। ঝালকাঠী জেলা ৫৮.০৩% পাস করে গত বছরের ৫ম থেকে ৪র্থ স্থানে উঠে এসছে। আর পটুয়াখালীর অবস্থান এবার বোর্ডের মধ্যে ৫ম, পাসের হার ৫৭.১০%। দ্বীপজেলা ভোলার অবস্থান গত বছরের ৪র্থ থেকে ৬ষ্ঠতে এসেছে। পাসের হার ৫৩.৭১%।
বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৩.১৩%। যা গত বছর ছিল ৯৬.৭৯%। তবে এ বিভাগে মেয়েদের পাসের হার ৮৫.৬২%। মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার ৪৩.১৪%। ছেলেদের পাসের হার মাত্র ৩১.৪৩%। আর বানিজ্য বিভাগে পাসের হার ৫৪.৬১%। ছেলেদের পাসের হার ৪৬.৩১%।
৬টি জেলার ১ হাজার ৫১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৮০,৪৫৮ ছাত্র-ছাত্রী ২১৬টি কেন্দ্রে মাধ্যমিক পরিক্ষায় অংশ নিলেও ৪৮,৫৫৫ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। এরমধ্যে জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ২,৭৭৮ বা ৩.৪৫%। ৪<৫ গ্রেডে ৮,৭৬০ বা ১০.৮৯%। জিপিএ ৩.৫<৫ গ্রেডে ৭,৩৯৫ বা ৯.১৯%। জিপিএ ৩-<৩.৫ পেয়ে ৯,৬৪৪ বা ১১.৯৯% এবং ২-<৩ গ্রেডে উত্তীর্ণের সংখ্যা সর্বাধীক ১৮,১০৩ বা ২২.৫০%। আর সর্বনিম্ন গ্রেড, ১<২ গ্রেডে পাস করেছে ১,৮৭৫শিক্ষার্থী। যা গত বছরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার বেশী। সর্বনিম্নতম এই গ্রেডে পাসের হার ২.৩৩% । যা গত বছরের চেয়ে ১ ভাগ বেশি। এ পরিসংখ্যান পাাসের হার প্রায় ৪% বৃদ্ধির কথা বললেও এবার নি¤œতম গ্রেডে উত্তীর্ণের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানান দিচ্ছে।