সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ন
Logo

খাল উদ্ধার না হলে ডুববে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’!

/ ২৮ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

একসময় জোয়ার-ভাটার খালের নগরী হিসাবে পরিচিত বরিশাল এখন জলাবদ্ধতার বড় ঝুঁকির মুখে। নগরীর পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত ২৯টি খালের মধ্যে ২১টিরই অস্তিত্ব হারিয়েছে। বাকি আটটি খালের বেশির ভাগই মৃতপ্রায় অবস্থায়। ফলে ভারী বর্ষণ হলেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। খালগুলো দ্রুত উদ্ধার ও সংস্কার না হলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন নগরবাসী ও পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ২৯টি খাল উদ্ধার, সংরক্ষণে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। সেই প্রকল্প পাস হলেই খাল উদ্ধার করে তা সংরক্ষণে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একসময় বরিশাল নগরীর চারদিকে ছড়িয়ে থাকা জোয়ার-ভাটার খালগুলো ছিল পানি নিষ্কাশন ও অভ্যন্তরীণ নৌ-যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। বর্ষার অতিরিক্ত পানি সহজেই এসব খাল দিয়ে কীর্তনখোলা নদীতে গিয়ে পড়ত। এ কারণে অতীতে প্রবল বর্ষণেও নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। খালভিত্তিক জীবনযাত্রার কারণে একসময় বরিশালকে ‘প্রাচ্যের ভেনিস’ বলেও আখ্যায়িত করা হতো। তবে সময়ের পরিক্রমায় অবৈধ দখল, ভরাট, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় একে একে হারিয়ে যেতে শুরু করে খালগুলো। বরিশাল পৌরসভা সিটি করপোরেশনে রূপান্তর হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে খালের ওপর স্থাপনা নির্মাণ, লিজ প্রদান ও দখল বৃদ্ধির অভিযোগ ওঠে। বটতলা এলাকার জোয়ার-ভাটার খাল ভরাট করে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়। একইভাবে সদর রোড এলাকার জিলা স্কুল খাল, ভাটার খাল, ভাটিখানা খালসহ বেশ কয়েকটি খালের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে যে কয়েকটি খাল টিকে আছে সেগুলোর অনেকগুলোও দখল ও দূষণের শিকার। খালের দুপাড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা। অনেক স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে খালের নাব্যতা কমে গেছে এবং পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিসিসি সূত্র জানায়, খাল পুনরুদ্ধার, সংরক্ষণ ও দুপাশে সড়ক নির্মাণের লক্ষ্যে ৭৫৯ কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

নগরীর কাউনিয়া এলাকার জেলখালের পাড়ের বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম ইয়াদ বলেন, ‘ছোটবেলায় দেখেছি খালে সারাবছর পানি চলাচল করত। এখন খালের জায়গা দখল হয়ে গেছে, ময়লা-আবর্জনায় ভরে আছে। খালগুলো উদ্ধার না করলে বরিশাল নগরীতে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়বে।’ সচেতন নাগরিক সমাজ বরিশালের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেসব খাল দখল ও ভরাট করা হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। অন্যথায় জলাবদ্ধতা আরও ভয়াবহ রূপ নেবে।’

বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, ‘নগরীর খালগুলো উদ্ধার ও সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছি। ৭৫৯ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত হলে খাল উদ্ধার, সংস্কার এবং দুই পাশের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ স্থায়ীভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com