বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
Logo

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুলের এমপি পদের কী হবে?

/ ২০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কার করায় তার এমপি পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

যদিও সংবিধান বলছে, সংসদ সদস্য তার নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে কিংবা দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের পর ২০১৯ সালে বিএনপির দলীয় এমপিদের কয়েকজনের শপথের পর একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তখন দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ওই এমপিরা শপথ নেওয়ায় তাদের বহিষ্কারের গুঞ্জন উঠেছিল।

এই প্রেক্ষাপটে তখনকার আইনমন্ত্রী বলেছিলেন, দল বহিষ্কার করলে এমপি পদ যাবে না।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোনো ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হলে তিনি যদি-(ক) ওই দল হতে পদত্যাগ করেন, অথবা (খ) সংসদে ওই দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তা হলে সংসদে তার আসন শূন্য হবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার অযোগ্য হবেন না।

এক তরুণীর সঙ্গে ‘ব্যক্তিগত’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বুধবার (২২ জুলাই) নৈতিক স্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কার করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তাকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্তও নেয় তারা।

দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিকেলে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৈঠকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে এ সংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক তদন্ত করা হয়। তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় তাকে গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গাজী নজরুল ইসলামকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘আর্টিকেল ৭০ বলেন বা আর্টিকেল ৬৬, যেখানে ডিসকোয়ালিফিকেশনের কথা বলা আছে, দুই জায়গায় কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। তবে যেটা আসে সেটা হলো যখন পার্টি একজন লোককে নোমিনেট (মনোনীত) করে, জনগণ কিন্তু সেই পার্টির নোমিনেশনের ভিত্তিতেই তাকে ভোটটা দেয়। পার্টি যখন তাকে বহিষ্কার করে তখন স্বাভাবিকভাবেই কিন্তু ওই জনগণের রায় বা ম্যান্ডেটটা কিন্তু অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে, কারণ তারা তো পার্টির পক্ষে দিয়েছিল তাকে। পার্টি যখন তাকে যেকোনো অসৎ কাজের জন্য বহিষ্কার করে, তখন কিন্তু সেখানে ওই নৈতিকতার প্রশ্নটা চলে আসে যে তার এটা থাকবে কিনা।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদত্যাগ হলো স্বেচ্ছার ব্যাপার, আর এখানে বহিষ্কারটা হলো পার্টির সিদ্ধান্তের ব্যাপার। ওই জায়গাটায় এখনো যে একটু তর্ক আছে, লিগ্যাল বিতর্ক আছে। তবে একটা মামলায় কোর্ট বলে দিয়েছিল স্পিকারকে যে, ইউ সেন্ড দ্য ম্যাটার টু ইলেকশন কমিশন, দে উইল ডিসাইড (আপনি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে পাঠান, তারা সিদ্ধান্ত নেবে)। এক্ষেত্রে (গাজী নজরুল ইসলাম) আমার ব্যক্তিগত মত হলো যে, যেহেতু জনগণের ভোটটা হয়েছে পার্টির নোমিনেশনে, পার্টি যদি তাকে বহিষ্কার করে, সেখানে জনগণের মতটা তো আর থাকার কথা না। অতএব সেক্ষেত্রে তার সিটটা ভ্যাকেন্ট (শূন্য) হওয়া প্রয়োজন।’

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির এ বিষয়ে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে আছে ‘পদত্যাগ’। তিনি হয়েছেন ‘বহিষ্কার’। জামায়াত আজকেই নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দিচ্ছে। কারণ ‘নৈতিক স্খলন’। প্রশ্ন হচ্ছে সংসদ সদস্য থাকতে পারবেন কি না? আমার মতে- না।”

গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত’ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে কড়া সমালোচনা শুরু হয়। পরে নজরুল ইসলাম তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দাবি করেন, রাজধানীর মগবাজারে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’র বাবার অফিসে তাকে ‘জিম্মি’ করে এক লাখ টাকা আদায় করা হয়। এরপর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের (তরুণী ও গাজী নজরুল ইসলাম) ‘ব্যক্তিগত’ ও ‘ঘনিষ্ঠ’ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর মধ্যে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে বিভিন্ন মাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কক্ষে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণী দাঁড়িয়ে রয়েছেন। সেখানে টেবিলে রাখা আইডি কার্ডে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট। ঠিক এর নিচে লেখা ১৩তম পার্লামেন্ট। এরপর গাজী নজরুল ইসলামের ছবি দেওয়া। ছবির নিচে লেখা জি এম নজরুল ইসলাম। পদবি হিসেবে লেখা সংসদ সদস্য। এ সময় হট্টগোলের মধ্যে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘দেখেন সাতক্ষীরা জামায়াতের লোক মেয়েসহ এখানে ধরা খাইছে। এই যে এই মুরুব্বি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com