শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন
Logo

পর্যাপ্ত ঘুমের পরও ক্লান্তি কাটছে না? জানুন যে সমস্যায় ভুগছেন

/ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬

অনলাইন ডেক্স ।।

রাতে ঠিকঠাক ঘুমানোর পরও সকালে শরীরে ক্লান্তি থেকে যাচ্ছে? সামান্য হাঁটাচলা কিংবা দৈনন্দিন কাজ করতে গেলেই হাঁপিয়ে উঠছেন, কাজে মনোযোগও ধরে রাখতে পারছেন না? অনেকেই এসব সমস্যাকে বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রভাব মনে করে এড়িয়ে যান। কিন্তু দীর্ঘদিন এমন ক্লান্তি অনুভব করার পেছনে থাকতে পারে আর্থ্রাইটিস বা বাতের মতো রোগ।

 

সাধারণত আর্থ্রাইটিসের লক্ষণ বলতে জয়েন্টে ব্যথা, ফোলাভাব ও শক্ত হয়ে যাওয়ার বিষয়গুলোই বেশি পরিচিত। তবে এসব উপসর্গের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তিও এ রোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এমনকি পর্যাপ্ত ঘুমানোর পরও অনেক রোগীর শরীরের অবসাদ দূর হয় না।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, জয়েন্টের ব্যথা, ঘুমের সমস্যা এবং শারীরিক সক্রিয়তা কমে যাওয়ার কারণে এই ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। সময়ের সঙ্গে তা দৈনন্দিন কাজকর্ম ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

 

ভারতের আইএসআইসি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের রিউমাটোলজি বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক চিকিৎসক ডা. শ্রী রাম গর্গের মতে, আর্থ্রাইটিসের কারণে তৈরি হওয়া ক্লান্তি দূর করতে শুধু ঘুমের সময় বাড়ানো যথেষ্ট নয়। প্রদাহ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত ব্যায়াম এবং জীবনযাত্রায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে হবে।

আর্থ্রাইটিসে কেন দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দেয়?

 

আর্থ্রাইটিসের কারণে সৃষ্ট ক্লান্তি সব সময় বয়স বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের ফল নয়। বিশেষ করে প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে শরীরে দীর্ঘসময় প্রদাহ বজায় থাকে, যা অবসাদ ও দুর্বলতার অন্যতম কারণ।

এ ছাড়া জয়েন্টের ব্যথার কারণে রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যেতে পারে। ফলে দীর্ঘসময় ঘুমালেও শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। আবার ব্যথা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অনেকেই হাঁটাচলা ও ব্যায়াম কমিয়ে দেন। এতে পেশির শক্তি কমে যায় এবং শারীরিক সক্ষমতা হ্রাস পায়।

ফলে অল্প কাজ করতেও শরীরকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। এভাবে ব্যথা, অনিয়মিত ঘুম ও পেশির দুর্বলতা পরস্পরকে বাড়িয়ে একটি দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তির চক্র তৈরি করে।

 

ক্লান্তি কমাতে যে ৫টি অভ্যাস গড়ে তুলবেন-

১. শারীরিক চলাফেরা একেবারে বন্ধ করবেন না

জয়েন্টে ব্যথা থাকলে ব্যায়াম করতে অনীহা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘদিন শরীরচর্চা বন্ধ রাখলে পেশি দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি জয়েন্টের জড়তাও বাড়তে পারে।

তাই নিজের শারীরিক সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিদিন অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং কিংবা পানিতে ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিয়ে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম করতে পারেন। একটানা দীর্ঘসময় ব্যায়াম না করে দিনের বিভিন্ন সময়ে অল্প অল্প করে শরীরচর্চা করাও উপকারী। ব্যায়ামের ফলে ব্যথা বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২. ঘুমের রুটিন ঠিক রাখুন

আর্থ্রাইটিসের ব্যথা অনেক সময় রাতের ঘুমে বাধা সৃষ্টি করে। আবার ঘুমের ঘাটতি থাকলে ব্যথা ও ক্লান্তির অনুভূতিও বাড়তে পারে। এ কারণে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকালে একই সময়ে ওঠার অভ্যাস করুন।

রাতে চা-কফি পান কমিয়ে দিন। ঘুমানোর আগে দীর্ঘসময় মোবাইল ও কম্পিউটার ব্যবহার থেকেও বিরত থাকুন। শোবার ঘর আরামদায়ক রাখার চেষ্টা করুন। ব্যথার কারণে নিয়মিত ঘুম ভেঙে গেলে বিষয়টি অবহেলা না করে রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

৩. শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করুন

দৈনন্দিন কাজ একসঙ্গে শেষ করার চেষ্টা না করে সেগুলো ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়বে না। প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে রাখুন এবং দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে কাজ করার পরিবর্তে সম্ভব হলে বসে কাজ করুন। কাজের ধরন পরিবর্তন করে এবং অপ্রয়োজনীয় শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে নিজের শক্তি সঞ্চয় করতে পারেন।

 

৪. কাজের ফাঁকে পর্যাপ্ত বিরতি নিন

আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য শরীরচর্চার পাশাপাশি বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের অধীন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড মাসকিউলোস্কেলেটাল অ্যান্ড স্কিন ডিজিজেসের পরামর্শ অনুযায়ী, শারীরিক সক্রিয়তা ও বিশ্রামের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।

তবে দীর্ঘসময় বিছানায় শুয়ে না থেকে কাজের মাঝখানে ছোট ছোট বিরতি নিন। এতে অতিরিক্ত ক্লান্তি ছাড়াই দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ হতে পারে।

৫. দীর্ঘদিনের ক্লান্তিকে স্বাভাবিক ভাববেন না

শরীরে ক্লান্তি দেখা দিলেই যে তার কারণ আর্থ্রাইটিস, এমন নয়। রোগের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কিংবা নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় দুর্বলতা তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া রক্তস্বল্পতা, থাইরয়েডের সমস্যা ও বিভিন্ন সংক্রমণ থেকেও দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে।

তাই দীর্ঘদিন ধরে শরীরে অবসাদ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ক্লান্তির প্রকৃত কারণ শনাক্ত করতে পারেন।

মনে রাখতে হবে, পর্যাপ্ত ঘুমের পরও দীর্ঘদিন ক্লান্তি থাকলে সেটিকে শুধু বয়স বা কাজের চাপের ফল মনে করে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। সঠিক কারণ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনলেই সুস্থ থাকা সহজ হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com