মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৫ অপরাহ্ন
Logo

পুরুষ হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় স্তনে অস্ত্রোপচার, অতঃপর লিজার মৃত্যু

/ ৩৩ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

নারী থেকে পুরুষ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আকাঙ্ক্ষা ছিল বরিশালের গৌরনদীর রোজি আক্তার লিজার (৩১)। এ লক্ষ্যে তিনি ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন বলে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা জানিয়েছেন।

গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে তার স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচার হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর ৬ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান।

অস্ত্রোপচারের পর তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসা প্রক্রিয়া, হাসপাতালের নথিপত্র এবং অস্ত্রোপচারের আগে সম্মতির বিষয়টি নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

লিজা গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদার ও ফজিলা বেগমের মেয়ে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, লিজা ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত নারীবাচক পোশাক-পরিচ্ছদের চেয়ে পুরুষদের মতো পোশাক ও চুলের স্টাইল পছন্দ করতেন। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর তিনি নিজের পরিচয় নিয়ে পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পুরুষ হিসেবে নিজেকে উপস্থাপনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

তার মা ফজিলা বেগম বলেন, আমার মেয়ে ছোটবেলা থেকেই কোনো ছেলেকে পছন্দ করত না। তাকে দুইবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো সংসারই সে করেনি।

লিজার ঘনিষ্ঠজন জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার জানান, লিজা ঢাকায় হরমোন-সংক্রান্ত চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। স্তন অস্ত্রোপচারের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

জেনিফা বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর লিজাকে ঢাকার ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ‘সরফরাজ’ নামে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের আগে হাসপাতালের সম্মতিপত্রে তিনি লিজার স্ত্রী হিসেবে স্বাক্ষর করেন বলে জানান।

তবে লিজার বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, জেনিফা যে স্বাক্ষর করবে এবং তার স্বাক্ষরের ভিত্তিতে অপারেশন হবে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। লিজার নাম সরফরাজ রাখা হয়েছে— এটাও আমি পরে জানতে পেরেছি।

হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে মৃতের নাম ‘সরফরাজ’ এবং লিঙ্গ পুরুষ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। হাসপাতালের নথিতে কীভাবে এই নাম ও লিঙ্গ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা স্পষ্ট তথ্য জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে হাসপাতালের দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামে একজন নিজেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে জিএমের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।

সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে ফোন করবেন বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com