রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
Logo

ফেসবুকে পোস্ট: অতঃপর নারীকে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

/ ২০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ভোলা প্রতিনিধি ।।

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মমতাজ বেগম রাসু (৬০) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

গ্রেফতার দুজন হলেন উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নজির বেপারী বাড়ির বাসিন্দা মামলার এক নম্বর আসামি মো. কাশেম (৫৫) এবং দুই নম্বর আসামি কাশেমের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (৫০)।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে নিহত মমতাজ বেগমের বড় মেয়ে রুবিনা বেগম বাদী হয়ে দৌলতখান থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। পরদিন শনিবার সকালে মামলার দুই আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে ভোলার আদালতে পাঠায় পুলিশ।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে জয়নগর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে মমতাজ বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে রাত আনুমানিক ২টার দিকে নিজ বসতঘরে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার আগে মমতাজ বেগমের দেবর বজলু বেপারীর ছেলে মাইনুদ্দিন জমি-সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে রাত ৮টার দিকে প্রতিবেশী কাশেম, তার ছেলে ইকবাল, স্ত্রী রাজিয়া বেগম ও নিহতের দেবর বজলু বেপারীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

পরিবারের দাবি, সংঘর্ষ থামাতে মমতাজ বেগম এগিয়ে গেলে আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তার অবস্থার অবনতি হয়ে রাত ২টার দিকে মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর কাশেম ও তার স্ত্রী রাজিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।

দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, নিহতের বড় মেয়ে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। মামলার এক ও দুই নম্বর আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, মামলার তদন্ত চলছে এবং অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মমতাজ বেগমের মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com