সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৩ পূর্বাহ্ন
Logo

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জামায়াত নেতার পদত্যাগ, যে অভিযোগ তুললেন

/ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

পটুয়াখালী প্রতিনিধি ।।

পটুয়াখালীর মহিপুরে দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ তুলে দলীয় পদ ও সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এক স্থানীয় নেতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান মহিপুর সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃত্বের দাবি, ব্যক্তিগত জমিজমা ও পাওনা টাকা আদায়-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তিনি দল থেকে দূরে সরে গেছেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পদত্যাগপত্র জমা দেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বিবৃতিতে খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী জানান, রাজনীতিতে যুক্ত থাকার সময় তিনি ন্যায় ও নৈতিকতার পক্ষে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দলের কিছু কেন্দ্রীয় ও উচ্চপর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে ওঠা নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তাঁর নজরে এসেছে।

কিয়াম গাজীর দাবি, এসব অভিযোগ তাঁর ব্যক্তিগত আদর্শ ও বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ায় তিনি দলীয় সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিবৃতিতে কিয়াম গাজী উল্লেখ করেন, স্বেচ্ছায় দেওয়া এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লেখায় তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে ‘ইসলাম’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। তাঁর মতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের নামের সঙ্গে ‘ইসলাম’ যুক্ত থাকলেই তা ইসলামের প্রকৃত আদর্শের প্রতিনিধিত্ব করে না; বরং মানুষের কর্ম ও চরিত্রই তার আসল পরিচয়।

রাজনৈতিক জীবনের কোনো আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন খলিলুর রহমান।

এদিকে স্থানীয় জামায়াত নেতারা খলিলুর রহমানের অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

মহিপুর সদর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির তোফাজ্জল হোসেন সিপাহি জানান, খলিলুর রহমান কিয়াম গাজী গত বছরের ৫ আগস্টের পর দলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং দুই-তিন মাস সক্রিয় ছিলেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন।

জামায়াত আমিরের দাবি, ‘খলিলুর রহমানের ব্যক্তিগত জমিজমা নিয়ে একটি বিরোধ ছিল, যা স্থানীয় সালিসে মীমাংসা হয়নি। এ ছাড়া এক ব্যক্তির কাছে তাঁর প্রায় তিন লাখ টাকা পাওনা ছিল, যা উদ্ধারে সংগঠন কোনো দায়িত্ব নেয়নি। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি দল থেকে দূরে সরে গেছেন বলে আমরা মনে করি।’

জামায়াত আমির আরও জানান, খলিলুর রহমান এখন পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা অনুযায়ী কোনো লিখিত পদত্যাগপত্র জমা দেননি। বিষয়টি নিয়ে দায়িত্বশীল নেতারা আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com