Loading Now

ববি: কর্মবিরতির পর এবার কমপ্লিট শাটডাউন

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

পদোন্নতির দাবিতে কর্মবিরতির পর এবার ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। বুধবার সকাল থেকে তাঁরা এই কর্মসূচি শুরু করেন। এতে সব বিভাগের ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন শিক্ষকেরা। এতে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, উপাচার্য নানা অজুহাতে ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতি আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলছেন। পদোন্নতির দাবিতে ১০ এপ্রিল একটি বোর্ড গঠনের জন্য উপাচার্য ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে পাঁচ কার্যদিবসের আলটিমেটাম দেন শিক্ষকেরা। এতেও সাড়া না মিললে ১৯ এপ্রিল থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশন শুরু করেন মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন। তবে সোমবার তিনি অনশন ভাঙেন। এরপর সেদিনই কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষকেরা। এ কর্মসূচি অনুসারে গত মঙ্গলবার কর্মবিরতি পালন করেন তাঁরা। এরপর গতকাল পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থীরা বলছেন, পরীক্ষা ও ক্লাস বন্ধ হওয়ায় তাঁদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান শিক্ষার্থীরা। এ প্রসঙ্গে গণিত বিভাগের এক ছাত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গতকাল বুধবার ২৫টি বিভাগেরই কোনো না কোনো বর্ষের সেমিস্টার ফাইনাল, মিডটার্ম পরীক্ষা, ক্লাস টেস্ট কিংবা ক্লাস ছিল। কারণ, ঈদুল ফিতরের ২৪ দিনের বন্ধ শেষে এখন একাডেমিকের ভরা মৌসুম চলছে। আবার ঈদুল আজহার বন্ধ আসছে ১৭ মে থেকে ১৯ দিন। এর মধ্যে ক্লাস, পরীক্ষা বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়তে যাচ্ছেন। কারণ, কোনো কোনো বিভাগে কমবেশি সেশনজট রয়েছে।

ইংরেজি বিভাগের স্নাতকোত্তরের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘মিডটার্ম পরীক্ষা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা নেয়নি। এটা আমাদের ওপর জুলুম করা হচ্ছে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রধান শাখাওয়াত হোসেন বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের পদোন্নতি হচ্ছে না। বন্ধ রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ কার্যক্রমও; যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে এলেও তা পূরণ না হওয়ায় শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলম বলেন, ইউজিসির কথা, সংবিধি প্রণয়নের আগপর্যন্ত পদোন্নতি বন্ধ থাকবে। বাকিগুলো সব ঠিক থাকবে। কিন্তু তা মানতে নারাজ শিক্ষকেরা। তিনি ক্লাস-পরীক্ষা চালু রেখে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান।

Post Comment

YOU MAY HAVE MISSED