অনলাইন ডেক্স ।।
জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীদের পুষ্টির চাহিদা পরিবর্তিত হয়। তাই ২০, ৪০ ও ৬০ বছর বয়সে নির্দিষ্ট কিছু পুষ্টির অভাব নারীদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০-এর কোঠায় থাকা নারীদের মধ্যে আয়রন এবং ফোলেটের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। আয়রনের অভাবে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং মনোযোগের অভাব বা ব্রেইন ফগ-এর মতো সমস্যা হতে পারে। অন্যদিকে, শরীরে নতুন কোষ গঠন এবং গর্ভাবস্থায় শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য ফোলেট অপরিহার্য।
বয়স ৪০-এর কোঠায় পৌঁছালে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন-ডি এবং ক্যালসিয়ামের চাহিদা বেড়ে যায়। এসব পুষ্টি উপাদানের অভাবে ঘুমের সমস্যা, পেশিতে টান পড়া, উদ্বেগ এবং হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৬০ বছর বয়সের পর শরীর আগের মতো কার্যকরভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে না। এ পর্যায়ে এসে ভিটামিন-বি১২ এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি থাকে।
ভিটামিন-বি১২ এর অভাবে স্নায়ুর সমস্যা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। এছাড়া, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্ক এবং অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক নারীই ক্লান্তি, চুল পড়া এবং মেজাজের পরিবর্তনের মতো লক্ষণগুলোকে অবহেলা করেন। অথচ এগুলো শরীরে মারাত্মক পুষ্টি ঘাটতির সুস্পষ্ট ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল সাধারণ মাল্টিভিটামিনের ওপর নির্ভর করাই যথেষ্ট নয়। বয়স, রক্ত পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা ও পুষ্টির পরিপূরক (সাপ্লিমেন্ট) গ্রহণ করা উচিত।
তারা আরও জানান, একটি সুষম ডায়েট, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বয়সভিত্তিক পুষ্টির চাহিদার প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিলে নারীরা তাদের হাড়, হৃৎপিণ্ড, মস্তিষ্কসহ সার্বিক স্বাস্থ্যের উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাতে পারবেন।