মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
২ কোটি টাকা ঘুস চাওয়া পিডিবির সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি সাবেক এমপির বাসা থেকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ১৫ নেতাকর্মী আটক উজিরপুরে বাস-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ৩ বরিশালে ৮ কলেজে এবারও মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী, অনুমোদন বাতিলের আশঙ্কা বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা ও কর্মমান আরও উন্নত করা প্রয়োজন: বিভাগীয় কমিশনার বরিশালে আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস উদ্‌যাপন দাবি আদায়ে ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যালসের শ্রমিকদের অনশন মালয়েশিয়া ম্যাচের আগে বাংলাদেশের বড় দুঃসংবাদ ভোলায় তাবলিগ জামাতে এসে মারা গেলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুসল্লি পটুয়াখালীতে ইয়াবার টাকার বিরোধে অটোচালক জাকারিয়া খুন, গ্রেফতার ৩

বরিশালে ৮ কলেজে এবারও মেলেনি কোনো শিক্ষার্থী, অনুমোদন বাতিলের আশঙ্কা

/ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

চলতি ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়ায় দেশের অন্তত ১০টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী মেলেনি। এর মধ্যে আটটি প্রতিষ্ঠানই বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের।

শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন নিয়ে কলেজগুলোর যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে নানা জটিলতায় এগুলো এমপিওভুক্ত হতে পারেনি। এমপিওর আশায় বিনা বেতনে যোগ দেওয়া শিক্ষকরাও একপর্যায়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যান। ফলে চরম শিক্ষকসংকটে থমকে যায় শিক্ষা কার্যক্রম। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ওই আটটি কলেজের পরিণতিও শেষ পর্যন্ত একই দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলীতে বরগুনা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, বেতাগীর কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পিরোজপুরের স্বরূপকাঠির পূর্ব জালাবাড়ি আদর্শ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সেহাঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, পটুয়াখালী সদরের লোহালিয়া ইউনিয়নে পাজাখালী কলেজ, গলাচিপার পানপট্টি কলেজ এবং পিরোজপুরের কাউখালীর সায়না রঘুনাথপুর ইউনিয়নে ইজিএস শিক্ষা নিকেতন। এর মধ্যে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত হয়েছিল, বাকি তিনটি কলেজ হিসেবেই প্রতিষ্ঠা হয়।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান টানা কয়েক বছর চালু থাকার পর ২০২৩ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলদের দাবি—শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত না হওয়া এবং স্থানীয় দলীয় কোন্দলের কারণেই মূলত কলেজগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে পাঠদানের অনুমতি বাতিলের জন্য শিক্ষা বোর্ডে আবেদনও করা হয়। তবে বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তালিকায় হালনাগাদ তথ্য না থাকায়, এ বছরও উচ্চ মাধ্যমিকে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘শিক্ষার্থীশূন্য’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমনই একটি প্রতিষ্ঠান বেতাগীর চান্দুখালী বাজারের বরিশাল-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক সংলগ্ন ‘কদভানু মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়’। ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। তবে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে এসে একাদশে ভর্তি বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক শামীমা নাসরিন জানান, প্রতিবছর বিদ্যালয়টি থেকে প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পাস করায় তাদের ওপর ভরসা করেই কলেজ শাখা চালু করা হয়েছিল। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শেষ পর্যন্ত কলেজ শাখার কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন তারা।

তবে স্থানীয়রা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলেন, প্রতিষ্ঠাতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোশারফ হোসেন বিদ্যালয়ের পাশেই নিজ নামে ডিগ্রি কলেজ স্থাপন করেছেন। এসএসসি পাস শিক্ষার্থীদের ওই কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি করানোয় বিদ্যালয়ের কলেজ শাখা শিক্ষার্থী সংকটে পড়ে। বিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় সর্বশেষ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

কাঁঠালিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জলিলুর রহমান জানান, ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দে উচ্চ মাধ্যমিকে উন্নীত করা হয়। আশপাশের কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষক প্রভাষক পদে বিনা বেতনে পাঠদান করাতেন। কিন্তু এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ওই শিক্ষকরা যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। কলেজ কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে নিজেদের স্কুলের শিক্ষকরা উচ্চ মাধ্যমিকে ক্লাস শুরু করেছিলেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীরাই বলতে শুরু করেন, স্কুলের শিক্ষকরা কেন কলেজে পড়াবেন। এ কারণে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের পর আর শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়নি।

স্বরূপকাঠির সেহাঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান জানান, ওই এলাকার সন্তান ঢাকার ব্যবসায়ী একেএম শামসুদোহা ফারুক ব্যক্তিগত প্রচারের উদ্দেশে দাতা সেজে বিদ্যালয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা শুরু করেন। তবে শিক্ষা বোর্ড থেকে কেবল পাঠদানের প্রাথমিক অনুমতি মিললেও অন্য কোনো স্বীকৃতি বা সহায়তা পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে পরিচালনা ব্যয় বহন করতে না পেরে দাতা কেটে পড়লে চার বছর আগে এর কলেজ শাখা বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায় সেখান থেকে মাত্র দুইজন অংশ নিয়ে একজন উত্তীর্ণ হন।

একই উপজেলায় ১৯৫৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব জালাবাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি কবে কলেজে উন্নীত হয়েছে, কেন বন্ধ হলো- এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে রাজি হননি প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে কলেজের কার্যক্রম চালু হলেও মাঝে কয়েকবার বন্ধ ছিল। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৪ থেকে ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২১১ জনের মধ্যে ১৫৫ জন পাস করেন। সর্বশেষ ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে ছয়জন পরীক্ষা দেন।

স্বরূপকাঠির পাশে কাউখালীর ইজিএস শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক তানভীর আহমেদ তার কলেজ শাখা বন্ধের জন্য গ্রামের স্থানীয় দলাদলিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, একপক্ষ গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভর্তি না হওয়ার জন্য বলে। পাঠদান অনুমতি বাতিলে তারাই বোর্ডে আবেদন করে। এসব কারণে তিন বছর ধরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয় না।

পটুয়াখালী পাজাখালী কলেজটির অচলাবস্থার জন্য প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য শিক্ষককে দায়ী করেন প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ মো. আশরাফ আলী। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে এ কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি জানান, তিনি কয়েকবার তাবলিগ জামাতে গেলে কৌশলে শিক্ষকরা কলেজটিকে শিক্ষার্থীশূন্য করেন। ফলে তিন বছর ধরে কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তি হয় না। স্থানীয় এমপির সুপারিশ নিয়ে আবারও কলেজটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, তিনি তিন মাস আগে যোগদান করেছেন। ফলে শিক্ষার্থীশূন্য উচ্চ মাধ্যমিক কলেজগুলোর বিষয়ে সব তথ্য এখনও তার জানা নেই। সবেমাত্র ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় এখন এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ পাঠানো হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com