বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২০ পূর্বাহ্ন
Logo
সর্বশেষ :
অভিনয়ের জন্য যা করতে দ্বিধা করেননি দীপিকা ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ ৫ আগস্ট উপলক্ষে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা ৮ ব্র্যান্ডের ত্বক ফর্সাকারী ক্রিমে ভয়াবহ মাত্রার মার্কারি শনাক্ত পটুয়াখালীতে গণঅধিকার পরিষদের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ১০ সোনা এখনই কিনবেন না অপেক্ষা করবেন? নজর রাখবেন যেদিকে গণঅভ্যুত্থানের সফলতাকে কুক্ষীগত করার অপচেষ্টাকারীরা দেশ ও গণতন্ত্রের শত্রু : রহমাতুল্লাহ বাগেরহাটে ঘরে পড়েছিল মা-ছেলে-নানির গলিত লাশ, পুলিশের ধারণা ‘হত্যাকাণ্ড’ সারা দিন ত্বক মসৃণ ও কোমল রাখবেন যেভাবে বিএনপির দুই পক্ষে দ্বন্দ্ব: চরকাউয়ার ৬ রুটে বাস বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে মানুষ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অর্ধেক শিক্ষকের পদ ফাঁকা শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন!

/ ৪০ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ।।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) নিয়ম অনুসারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষক থাকার কথা ২৬০ জন। এর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ১৪৮ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫টি বিভাগ রয়েছে। তবে গত ১৫ বছর অধ্যাপক পদে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন। এমন শিক্ষকসংকট নিয়ে দেড় দশক ধরে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ববির শিক্ষকেরা বলছেন, এই ঘাটতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

ববিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ববিতে প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২১০ জন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৬২ জন। সে অনুযায়ী পাঠদানরত শিক্ষক রয়েছেন ১৪৮ জন। অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষকেরা এ সংকটের জন্য উপাচার্য এবং ইউজিসিকে দায়ী করেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শাখার তথ্যমতে, গণিত বিভাগে ৪৭৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান নিচ্ছেন ৭ শিক্ষক। ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে ৩২০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন, রসায়ন বিভাগে প্রায় ৫০৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৭ জন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ৪০২ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৫ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৪১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৪ জন, আইন বিভাগে ৫ জন শিক্ষক দিয়ে ৪২৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে।

এ নিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন এবং আইন বিভাগের প্রধান ড. কায়সার আহমেদ জয়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমরা অমানুষিক পরিশ্রম করি। একজন শিক্ষককে ৫-৬টি কোর্স নিতে হয়। আমাদের শুক্র, শনি বলতে কোনো ছুটি ভোগ করার সুযোগ হয় না। সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে কথা হয় গণিত, রসায়ন ও আইন বিভাগের কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই শিক্ষার্থীরা জানান, তাঁদের মাঝে মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শিক্ষকের আশায়। অনেক সময় চাপের কারণে ক্লাস নিতে পারেন না শিক্ষকেরা। এ কারণে তাঁদের সেশনজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অর্গানোগ্রামভুক্ত অধ্যাপক পদের সংখ্যা ৪৯টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের ড. মো. মুহসিন উদ্দীন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়রে একমাত্র অধ্যাপক। তিনি বলেন, ‘ইউজিসি কয়েকটি বাজে নিয়ম করেছে। তারা যে পদ দেয়, তাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেয়। ওই সময়ের মধ্যে যথাযথ শিক্ষক না পেলে আবার ইউজিসির কাছে পদ ছাড় করতে অনুমতি নিতে হয়।’ তিনি বলেন, ‘আমাদেরও দায় আছে। আমরা কেন সময়মতো নিয়োগ দিইনি।’ তাঁর মতে, বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা ভিসিরা সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ দেননি।

এ ব্যাপারে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে এ মাসেই ইউজিসিতে চাহিদা পাঠিয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২০-৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক দরকার। কিন্তু সে অনুযায়ী শিক্ষক নেই। এর ফলে পাঠদান করাতে শিক্ষকদের কষ্ট হচ্ছে। ইউজিসি অনুমতি দিলে নতুন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com