স্পোর্টস ডেক্স ।।
চলতি বিশ্বকাপে টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ‘গ্রুপ জে’ থেকে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নআর্জেন্টিনা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আলবিসেলেস্তে শিবিরে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু অধিনায়ক লিওনেলমেসির প্রতি সতীর্থদের নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং মাঠে নিজেদের উজাড় করে দেওয়ার মানসিকতা।
জর্ডানের বিরুদ্ধে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে ডিফেন্ডার ফাকুন্দো মেদিনার কণ্ঠে ঝরল তেমনই এক আবেগঘন বার্তা। অধিনায়কেরসম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে পুরো দল যে কতটা মরিয়া, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেদিনা সাফ জানিয়ে দিলেন, মেসিরজন্য মাঠে জীবন দিতেও প্রস্তুত তারা।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানের জয়ে জোড়া গোল করে দলকে জেতান লিওনেল মেসি। সেই ম্যাচে মেসির প্রথম গোলটির পেছনেরকারিগর ছিলেন ফাকুন্দো মেদিনা। মেদিনার নিখুঁত পাস থেকে করা গোলটি এতটাই চোখধাঁধানো ছিল যে, ম্যাচ শেষে খোদ আর্জেন্টাইনঅধিনায়ক একে তুলনা করেছিলেন বার্সেলোনায় জর্ডি আলবার দেওয়া সেই বিখ্যাত কাটব্যাকগুলোর সঙ্গে।
মেসি অতীতে ফিরে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি সবসময় জর্ডিকে বলতাম পেছনে পাস দিতে, আমি ঠিক পৌঁছে যাব… মেদিনার পাসটাআমাকে বার্সার সেই পুরনো দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে।’
প্রশংসায় ভাসলেও মাটিতে পা মেদিনার। অধিনায়কের কাছ থেকে এমন অবিশ্বাস্য প্রশংসা পেয়েও অহংকারে ভেসে যাননি এইআর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। ফিফার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেশ বিনয়ের সঙ্গেই বিষয়টি সামলেছেন তিনি।
মেদিনার মতে, মিডিয়া হয়তো বিষয়টিকে একটু বেশি বড় করে দেখাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় মেসি একটু বাড়িয়েই বলেছেন।হ্যাঁ, ওই পাসটা দেখে আমারও বার্সেলোনার সেই সোনালী দিনগুলোর কথাই মনে পড়ছিল, তবে আজকাল মিডিয়াতে সবকিছুই একটুবেশি বড় করে দেখানো হয়। আমি কেবল মাঠে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
গ্রুপ পর্বের বাধা সহজে পার হলেও মেদিনার চোখ এখন আসল লড়াইয়ে। নকআউট পর্বের প্রতিটি ম্যাচকে তিনি দেখছেন একেকটিফাইনাল হিসেবে। বিশ্বমঞ্চে ট্রফি ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের মূল লক্ষ্য, লিওনেল মেসিকে একটি রাজকীয় বিদায় উপহার দেওয়া।
মেদিনা দলের লক্ষ্য স্পষ্ট করে বলেন, ‘সামনে আরও ছয়টি ফাইনাল বাকি আছে। আমরা আমাদের সবকিছু ঢেলে দেব।যেকোনোপজিশনে খেলতে প্রস্তুত। কোচ আমাদের যে পজিশনেই খেলাক না কেন, আমরা মাঠে জানপ্রাণ লড়ে যাব।’
মেসির জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের কথা উল্লেখ করে বলেন,’যাতে আমাদের অধিনায়কের বিদায়টা সবচেয়ে সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ হয়। মেসিরজন্য আমরা মাঠে জীবন দিতেও প্রস্তুত।’