নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
দুর্গা দেবীর বোধন আজ বৃহস্পতিবার। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙার জন্য বন্দনা করা হবে। মণ্ডপে-মন্দিরে আজ পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে আগামীকাল শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
বোধন দুর্গাপূজার অন্যতম একটি আচার। বোধন শব্দের অর্থ জাগরণ বা চৈতন্যপ্রাপ্ত। পূজা শুরুর আগে সন্ধ্যায় বেলশাখায় দেবীর বোধন দুর্গাপূজার একটি অত্যাবশ্যকীয় অঙ্গ। শরৎকালের দুর্গাপূজায় এই বোধন করার বিধান রয়েছে। পুরাণ অনুসারে ভগবান রামচন্দ্র শরৎকালে রাক্ষসরাজ রাবণকে বধ করার উদ্দেশ্যে দুর্গাপূজা করেন। তিনি অকালে এই বোধন করেন বলেই এটি অকালবোধন নামেও খ্যাত। তবে বসন্তকালে চৈত্র মাসে যে দুর্গাপূজা তথা বাসন্তীপূজা অনুষ্ঠিত হয়, তাতে বোধন করার প্রয়োজন হয় না।
আজ বোধন শেষে আগামীকাল থেকে মহাষষ্ঠীতে ষষ্ঠীবিহিত পূজা, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে দুর্গাপূজা। প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে এ বছর মহাসপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা এক দিন বেড়ে চলবে ছয় দিন ধরে। এ হিসাবে আগামী শনিবার মহাসপ্তমী, রোববার মহাসপ্তমী (অধিক পূজা), সোমবার মহাষ্টমী ও কুমারী পূজা এবং মঙ্গলবার মহানবমী শেষে বুধবার বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনের শারদীয় দুর্গোৎসব।
সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসবেন। যার ফল হচ্ছে ফসল ও শস্যহানি। আর দেবী স্বর্গালোকে বিদায় (গমন) নেবেন নৌকায় চড়ে। যার ফল শস্যবৃদ্ধি।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এ বছর সারাদেশে ৩৩ হাজার ৮৫১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৩৫৫টি মণ্ডপে। এবার ৪৯৬টি পূজা বেড়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা মহানগরীতে এবার ২৫৮টি মণ্ডপে পূজার আয়োজন থাকছে, যা গতবার ছিল ২৬১টি। রাস্তার মধ্যে পূজা আয়োজনের অনুমতি না মেলায় ঢাকা মহানগরীতে এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা তিনটি কমেছে।
‘পাহারায় দুর্গাপূজার আয়োজন দুর্ভাগ্যজনক’
শারদীয় দুর্গাপূজার প্রাক্কালে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পুলিশ, ড্রোন ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কড়া পাহারায় সারাদেশে শারদীয় দুর্গাপূজা আয়োজন হচ্ছে। এই ঘটনা দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক।
ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এর মধ্য দিয়ে সংখ্যালঘু পূজার্থী জনগণের ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে। অন্যদিকে, বিশ্বে সারাদেশের ভাবমূর্তি নিদারুণভাবে প্রশ্নের মুখে পড়ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
নানা পরামর্শ পুলিশ সদরদপ্তরের
শারদীয় দুর্গাপূজা নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজক ও দর্শনার্থীদের জন্য নানা ধরনের পরামর্শ দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা, পূজামণ্ডপে সিসিটিভি ও অগ্নিনির্বাপণযন্ত্র স্থাপন এবং প্রতিমা বিসর্জনে নির্ধারিত পথ অনুসরণসহ নানা পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গতকাল পুলিশ সদরদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মণ্ডপের নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য আলাদা পোশাক, দৃশ্যমান পরিচয়পত্র ও ‘স্বেচ্ছাসেবক’ লেখা আর্মব্যান্ড নিশ্চিত করতে আয়োজকদের পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।
পূজা উদযাপনের সময় অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে আজান ও নামাজের সময় মসজিদের পার্শ্ববর্তী পূজামণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় শব্দযন্ত্রের ব্যবহার সীমিত রাখতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনো ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নির্ধারিত পথ অনুসরণ এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানেই বিসর্জন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।
পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য কয়েকটি নম্বর দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো– পুলিশ সদরদপ্তর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২২২৩৩৮০৬৬১, ০২২২৩৩৮১৯৬৭, ০১৩২০০০১২৯৯, ০১৩২০০০১৩০০; ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি): ০২২২৩৩৫৫৫০০, ০১৮১৭৬০২০৫০; ঢাকেশ্বরী মন্দির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২৯৬১১৩৫৩, ০১৭০৫৫০৫৫২৯; ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ: ০২২২৩৩৫৫৫৫৫, ০১৭১৩০৩৮১৮১, ০১৭১৩০৩৮১৮২, ০১৭৩০৩৩৬৬৯৯।
এ ছাড়া যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে বিনামূল্যে ফোন করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তা পাওয়া যাবে।
জেলা পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নম্বর জানতে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।