হাজারো কর্মীকে স্বেচ্ছা অবসরে যেতে বলছে মাইক্রোসফট
অনলাইন ।।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত প্রায় সাত শতাংশ কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসর (ভলান্টারি বাইআউট) বেছে নিতে বলেছে মার্কিন ধনকুবের বিল গেটসের প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কর্মীসংখ্যা কমানোর অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সফটওয়্যার জায়ান্টটির ৫১ বছরের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম। মাইক্রোসফট জানিয়েছে, এই এককালীন অবসর কর্মসূচি সেই সব কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাঁদের বয়স এবং চাকরির মেয়াদের বছরের যোগফল অন্তত ৭০।
সিএনবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, পদমর্যাদায় সিনিয়র ডিরেক্টর বা তাঁর নিচে থাকা কর্মীরা এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে বিক্রয় খাতের ইনসেনটিভ প্ল্যানে থাকা কর্মীরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন না। আগামী ৭ মে এই কর্মসূচির অংশ হওয়া কর্মীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হবে।
গত বৃহস্পতিবার কোম্পানিটি যখন কর্মীদের এই কর্মসূচির কথা জানায়, সেদিন মাইক্রোসফটের শেয়ারের দর প্রায় ৪ শতাংশ পড়ে যায়।
এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ পিপল অফিসার অ্যামি কোলম্যান বলেন, ‘আমাদের আশা, এই কর্মসূচি যোগ্য কর্মীদের নিজস্ব শর্তে পরবর্তী পদক্ষেপে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেবে এবং এ ক্ষেত্রে কোম্পানির পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
এ ছাড়া কর্মীদের বার্ষিক পুরস্কার হিসেবে শেয়ার প্রদানের পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনছে মাইক্রোসফট। এখন থেকে ব্যবস্থাপকদের আর নগদ বোনাসের সঙ্গে সরাসরি শেয়ারের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে না।
অ্যামি কোলম্যান আরও জানান, এর ফলে ব্যবস্থাপকেরা কর্মীদের উচ্চ কর্মদক্ষতার যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তা পাবেন। এ ছাড়া কর্মীদের বেতন পর্যালোচনার প্রক্রিয়াও সহজ করছে মাইক্রোসফট; এখন থেকে ব্যবস্থাপকেরা কর্মীদের বেতনের ক্ষেত্রে নয়টির পরিবর্তে পাঁচটি বিকল্প থেকে বেছে নিতে পারবেন।
গত বছর বেশ কয়েক দফা কর্মী ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে খরচ কমিয়েছে মাইক্রোসফট। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত কোম্পানিটিতে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার কর্মী কর্মরত ছিলেন, যার মধ্যে ১ লাখ ২৫ হাজারই যুক্তরাষ্ট্রে।
কর্মীবাহিনী ও প্রযুক্তি শিল্পের ওপর এআইয়ের প্রভাবের কথা মাথায় রেখে গত এক বছর ধরে বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই করছে। গত বৃহস্পতিবার মেটা জানিয়েছে, তারা পরিচালন দক্ষতা বাড়াতে এবং অন্যান্য বিনিয়োগের ব্যয় সমন্বয় করতে তাদের মোট কর্মীর ১০ শতাংশ বা প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করবে। আমাজন গত জানুয়ারি ও অক্টোবর মাসে দুই দফায় মোট ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। অন্যদিকে ফিনটেক কোম্পানি ‘ব্লক’ বছরের শুরুতে তাদের ৪০ শতাংশ কর্মী কমিয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, এআই টুল ব্যবহার করে একটি ‘ছোট দল’ দিয়েই আরও ভালোভাবে বেশি কাজ করা সম্ভব।
অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মতো মাইক্রোসফটও এআই অবকাঠামো ও টুল তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। গত ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকে তারা ডেটা সেন্টার ও অবকাঠামো সংশ্লিষ্ট খাতে ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে।
বেশ কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের দাবি, এআই কোডিং বা প্রোগ্রামিংয়ে দক্ষ হওয়ায় এখন আগের চেয়ে ছোট দল নিয়ে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। মাইক্রোসফটও বর্তমানে ডেভেলপারদের জন্য এমন সব এআই ‘কোডিং এজেন্ট’ অফার করছে, যা মানুষের হয়ে কাজ করে দিতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে প্রায় ৯ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল মাইক্রোসফট, যা ছিল ২০২৩ সালের পর তাদের সবচেয়ে বড় ছাঁটাই। সে সময় এক বার্তায় মাইক্রোসফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সত্য নাদেলা জানিয়েছিলেন, কোম্পানির এখন তিনটি প্রধান অগ্রাধিকার হলো—নিরাপত্তা, গুণমান এবং এআই রূপান্তর।
নাদেলা লিখেছেন, ‘এই প্ল্যাটফর্মের পরিবর্তন শুধু আমাদের তৈরি পণ্য বা ব্যবসায়িক মডেলকেই পুনর্গঠন করছে না, বরং আমাদের সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রতিদিনের কাজের ধরনকেও বদলে দিচ্ছে। এটি কখনও কখনও বিশৃঙ্খল মনে হতে পারে, তবে রূপান্তরের পথ সব সময় এমনই হয়।’



Post Comment