ঝালকাঠি প্রতিনিধি ।।
ঝালকাঠির নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ সময় হামলায় নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে গাড়ি। এ ঘটনায় সাতজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ রোববার দুপুরে উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নের ফেরিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনিয়ে নেওয়া ব্যক্তি মো. সিরাজ মোল্লা। তিনি দপদপিয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিরাজ মোল্লার বিরুদ্ধে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। আজ দুপুরে ওসি তৌহিদুজ্জামান সোহাগের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দপদপিয়া ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে হাতকড়া পরিয়ে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার সময় সিরাজ মোল্লার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালান। এতে ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশের একটি সরকারি গাড়ি ভাঙচুর করে হাতকড়াসহ সিরাজ মোল্লাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর বেলা ৩টার দিকে সিরাজ মোল্লার বাড়িসহ দপদপিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে সাতজনকে আটক করা হয়।
আটক সাতজনের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—মো. সোহেল হাওলাদার (২৭), মিল্টন হাওলাদার (২০), রাশেদ মৃধা (২৫) ও শহিদুল ইসলাম (২৮)। সোহেল ও মিল্টনের বাড়ি ভরতকাঠি গ্রামে। রাশেদের বাড়ি বাবুগঞ্জে এবং শহিদুলের বাড়ি গৌরিপাশা গ্রামে। আটক অন্য তিনজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নলছিটিতে পুলিশের ওপর হামলা, গাড়ি ভেঙে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিল সমর্থকেরা
এদিকে ঘটনার পর নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সম্ভাব্য পালানোর পথগুলোতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এস এম বায়জীদ ইবনে আকবর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
নলছিটি থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান সোহাগ বলেন, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিসহ এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছে।