সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পূর্বাহ্ন
Logo

বৃষ্টির স্বস্তি ক্ষণস্থায়ী, ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে জনজীবন বিপর্যস্ত

/ ৮৮ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আষাঢ় মাসেও নজিরবিহীন বৃষ্টির ঘাটতির পর বৃহস্পতিবার দুপুরে মাত্র দেড় ঘণ্টায় ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে বরিশালের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দুপুর ১টা ২৫ মিনিট থেকে ২টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত লাগাতার প্রবল বর্ষণের সঙ্গে বিকট শব্দে বজ্রপাত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসের মধ্যভাগে হওয়া এ বৃষ্টিতে অনেকেই বিভিন্ন অফিস-আদালত ও দোকানপাটে আটকা পড়েন। নগরীর নবগ্রাম রোড, বগুড়া রোড ও ফরিকবাড়ী, সদর রোডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে স্বাভাবিক জনজীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নগরীর ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতি হয়েছে। ফলে বৃহস্পতিবারের প্রবল বর্ষণের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই শহরের বেশিরভাগ এলাকা থেকে পানি নেমে যায়।

বৃহস্পতিবারের এ বর্ষণে অনেক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীকে কাকভেজা অবস্থায় বাড়ি ফিরতে দেখা গেলেও সবার চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। নজিরবিহীন এ প্রবল বর্ষণের সঙ্গে বজ্রগর্জনের কারণে রাস্তাঘাটে যানবাহনের সংখ্যাও দ্রুত কমে যায়। ফলে অনেক নারী ও শিশুকেও বিভিন্ন স্থানে আটকে থাকতে দেখা যায়। তবে দুপুর ৩টার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
আবহাওয়া বিভাগের মতে, একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বরিশাল-সংলগ্ন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু মোটামুটি সক্রিয় থাকলেও উত্তর বঙ্গোপসাগরের অন্যত্র তা দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। আগামী আরও কয়েক দিন বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে চলতি মাসে সারা দেশের মতো বরিশাল অঞ্চলেও স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়া বিভাগের দীর্ঘমেয়াদি বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত মাসে বরিশালে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৫.৩ শতাংশ কম বৃষ্টিপাতের পর চলতি মাসেও স্বাভাবিক ৪৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পরিবর্তে কিছুটা কম বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২৫ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত বরিশালে মাত্র ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
গত বছরের ১ নভেম্বরের পর টানা ১২৭ দিন বিরতির পর চলতি বছরের ৯ মার্চ বরিশালে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিললেও পুরো মার্চ মাসজুড়েই বৃষ্টিপাতের ঘাটতি ছিল ৪৯ শতাংশ। তবে এপ্রিল মাসে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় ১৬৯ শতাংশ বেশি। অথচ মে মাসে আবার স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৫.৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে বরিশালে।

বৃষ্টিপাতের এ টালমাটাল অবস্থার ধারাবাহিকতায় তাপমাত্রার পারদও লাগাতার স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকছে। এতে জনস্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রকৃতিনির্ভর দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি খাতেও নতুন নতুন দুর্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com