নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আবার নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ের কবলে সমগ্র বরিশাল অঞ্চল। সান্ধ্য পিক আওয়ারে প্রায় সাড়ে ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতীয় গ্রিড থেকে বরিশাল অঞ্চলে সরবরাহ ছিল ৪শ মেগাওয়াটের মতো। অথচ এ অঞ্চলের উৎপাদন ইউনিটগুলো থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ছিল প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট।
সকাল থেকে শুরু হয়ে পরদিন সকাল পর্যন্তই এ লোডশেডিং অব্যাহত থাকছে। এমনকি খোদ বরিশাল মহানগরীতেও মধ্যরাত পেরিয়ে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে এক ভয়াবহ ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়ছে পুরো মহানগরী। শিল্প-কলকারখানা ছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্যেও চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে সাম্প্রতিককালের এ নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ঘাটতিতে। বৃহস্পতিবার দিনভরই সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলজুড়েই প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর ১ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল বিভিন্ন এলাকায়।
বরিশাল মহানগরীর অফিসপাড়া থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলোও এ লোডশেডিং থেকে রেহাই পায়নি। এমনকি পরীক্ষার হলের লোডশেডিংয়ে অনেক কেন্দ্রেই শিক্ষার্থীদের অন্ধকারে প্রশ্নপত্র আর উত্তরপত্র হাতড়াতে হচ্ছে। আধো আলো আর আধো অন্ধকারে পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরেও লোডশেডিংয়ের কবল থেকে রেহাই মিলছে না। ফলে পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতেও চরম ভোগান্তিতে পড়ছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অর্ধলক্ষাধিক পরীক্ষার্থী। গত তিন দিনের এ বিদ্যুৎ ঘাটতির বিষয়ে গ্রিড ট্রান্সমিশন কোম্পানি, পশ্চিমাঞ্চলীয় বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ও পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ এ অঞ্চলের ৬টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বশীল মহলের কারও কাছ থেকেই সুস্পষ্ট কিছুই জানা যায়নি।
তবে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষম তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার স্টেশনসহ গ্যাস টারবাইন ও ডিজেল পাওয়ার স্টেশনগুলো থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ অব্যাহত আছে বলে জানা গেছে। বিদ্যুৎ সংকটে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে একাধিক ওষুধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, রপ্তানিমুখী জুতা প্রস্তুত শিল্পপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য এবং টেক্সটাইল ও সিমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোও ভয়াবহ উৎপাদন সংকটের কবলে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন উৎপাদন ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১শ কোটি টাকা বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।