নিজস্ব প্রতিবেদক ।।
বাবা-মা হারা লামিয়ার দুকূলে কেউ নেই। এতিম-অসহায় সেই লামিয়ার বিয়েতে এসেছেন ‘ভিআইপি’ সব অতিথি।
এমনকি ধুমধাম আয়োজনে দুই লাখ টাকা কাবিনে কন্যাদান করেছেন খোদ জেলা প্রশাসক নিজে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ব্যতিক্রমী এই বিয়ের আয়োজন হয়েছে বরিশালের সামাজিক সুরক্ষাবঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে।
বিয়ের এই আয়োজন ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিষ্ঠানটিতে। সামাজিক নিয়মেই শুক্রবার সকাল থেকে চলে বিয়ের আয়োজন আর বর গ্রহণের প্রস্তুতি।
বিয়ের সাজে অপেক্ষমাণ ছিল কনে লামিয়া। চারপাশে হাসি-আনন্দ।শুধু নেই তার বাবা-মা। তবে বিয়ের দিন তাকে আপনজনহীন থাকতে হয়নি। বরিশালের সুরক্ষা বঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রটিই হয়ে তার পরিবার। লামিয়ার জীবনের নতুন অধ্যায়ে পা রাখার মুহূর্তে তারাই হয়ে ওঠেন আপনজন।
বিয়ের আয়োজনে অতিথি হয়ে আসেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার, জেলার পুলিশ সুপার এজেএম মোস্তাফিজুর রহমান, সমাজসেবা কার্যালয়ের বিভাগীয় পরিচালক শাহ্ মো. রফিকুল ইসলাম, জেলার উপপরিচালক ইকবাল হোসেন, সমাজসেবা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ের ১২৫ জন অতিথি।
তাছাড়া উৎসব, সাজসজ্জা আর আপ্যায়নের আয়োজনেও কমতি রাখেনি সমাজসেবা পরিবার। অতিথি আপ্যায়নে ছিল পোলাও, রোস্ট, গরুর মাংস, সবজি, মুগডাল, মিষ্টি ও কোমল পানীয়। নবদম্পতিকে দোয়া এবং কন্যাদান করেন জেলা প্রশাসকসহ ভিআইপি অতিথিরা।
জানা গেছে, লামিয়া আক্তারের বরের নাম সেলিম গাজী। তিনি গাজীপুরের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন ইজিবাইক চালক।
অন্যদিকে গত চার বছর ধরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সুরক্ষা বঞ্চিত মেয়েদের প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে বসবাস ছিল কনে লামিয়া আক্তারের।
সমাজসেবা আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যক্ষ সাজ্জাদ পারভেজ জানান, আমাদের এই কেন্দ্রটিতে একসময় বর সেলিম গাজীর বোন ছিল। তার মাধ্যমেই লামিয়ার সঙ্গে পরিচয় সেলিমের।
তিনি জানান, বিয়েতে ১২৫ জনকে অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়। এসময় নবদম্পতিকে দোয়া করে ২০ হাজার টাকা উপহার দেন জেলা প্রশাসক। এছাড়া জেলা সমাজসেবা ও বিভাগীয় সমাজসেবা অফিস থেকে দেওয়া হয়েছে আরও ১০ হাজার টাকা।
সবমিলিয়ে বিয়েতে লাখ টাকা খরচ হতে পারে বলে জানান তিনি।