রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ০২:৪৪ পূর্বাহ্ন
Logo

কোরবানির গরু হাটে হঠাৎ জ্ঞান হারালে করণীয় কী

/ ২৫ বার পড়া হয়েছে
আপডেট : শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬

  1. অনলাইন ডেক্স ।।

পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি মাত্র কয়েক দিন। ঈদ সামনে রেখে বহু পরিশ্রম আর পরম মমতায় লালন-পালন করা হয় গবাদিপশু। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে খামারিরা আদরযত্নে নিজের প্রাণপ্রিয় গরু বা ছাগলটিকে করেন কোরবানি উপযোগী। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে ভালো দাম পাওয়ার আশায় বুক বাঁধেন। দেখেন স্বপ্ন।

স্বপ্নসাধ পূরণে আপন ঠিকানা ছেড়ে প্রিয় প্রাণীটিকে নিয়ে পাড়ি দেন খামারিরা দূরদূরান্তে কোরবানির পশুর হাটে। কিন্তু দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক সময় তাঁদের পড়তে হয় অনাকাঙ্ক্ষিত-অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে। কারণ, রোদ-বৃষ্টি-ঝড় কিংবা তীব্র শীতে বৈরী আবহাওয়ায় তাঁদের সঙ্গে থাকা কোনো কোনো গরু অসুস্থ হয়ে যায়। কোনোটির হয় জ্বর, কোনোটির হয় খিঁচুনি। হারিয়ে ফেলে জ্ঞান। দ্রুত চিকিৎসা না করালে লাখ টাকার রঙিন স্বপ্ন মুহূর্তেই হয়ে যায় ধূসর।

মৌলভীবাজারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, ছোট-মাঝারি গরুর চাহিদা বেশিমৌলভীবাজারে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট, ছোট-মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি
প্রাণ হারানো প্রাণীটিকে নিয়ে খামারি-ব্যাপারীদের আর্তনাদে কোরবানির হাটের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। অনেক সময় রোগাক্রান্ত বা অর্ধমৃত গরু দ্রুত জবাই করে ফেলা হয়। মাংস কম দামে বিক্রি করে কোনোমতে ক্ষতির মাত্রা কমানোর চেষ্টাও চলে।

এখন দেশজুড়ে তাপপ্রবাহের কারণে গরুর অসুস্থতার ঘটনাও অনেক ঘটছে। আজ শনিবার সকালেও রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী বড় পশুর হাটে একটি গরু ট্রাক থেকে নামানোর সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। লুটিয়ে পড়ে মাটিতে।

এমন পরিস্থিতি এড়াতে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা করানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, প্রচণ্ড গরমে গরু বা অন্য গবাদিপশু দ্রুত অসুস্থ হয়ে যায়। এই অবস্থায় দূরপথ পাড়ি দিয়ে গরু আনার সময় ট্রাকে বা নৌযানের কাপড় বা ত্রিপলের ছাউনি রাখতে হবে। সঙ্গে অ্যাসপিরিন-জাতীয় ওষুধ, স্যালাইন, থার্মোমিটার রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে গরুর মুখ দিয়ে লালা ঝরে কি না। আবার অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হয় কি না। হাতে তালুর পেছনের অংশ দিয়ে গরুর কানের পেছনে তাপমাত্রা পরীক্ষা করতে হবে। আরও নিশ্চিত হতে গরুর পায়ুপথের মুখে থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপতে হবে। কিছুক্ষণ পরপর পানি পান করাতে হবে। হাটে আনার পথে জ্ঞান হারালে পানি ছিটাতে হবে বলে জানান ভেটেরিনারি চিকিৎসকেরা।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক এস এম নজরুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, প্রচণ্ড গরম আর ভ্রমণের ক্লান্তিতে গবাদিপশু অসুস্থ হওয়ার অন্যতম কারণ। এমন পরিস্থিতিতে হাটে আনার পর প্রথমে গরুটিকে ছায়ায় রাখতে হবে। এরপর ভালো করে গোসল করানো প্রয়োজন। চাহিদা অনুযায়ী খাবার দিতে হবে।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, প্রায়ই দেখা যায় হাটে আনার পরপরই কোনো কোনো গরু জ্ঞান হারায়। তখন দ্রুত স্যালাইন পান করাতে হবে। এ জন্য নরমাল খাবার স্যালাইন পানিতে মিলিয়ে দিতে হবে। প্রতি ১ লিটার পানিতে ২ প্যাকেট স্যালাইন দিতে হবে। ক্লান্ত গরুর শক্তি জোগাতে ভিটামিন ও গ্লুকোজ-সমৃদ্ধ ওষুধ প্রাণিচিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার সাবেক কিউরেটর এস এম নজরুল ইসলাম আরও বলেন, জ্বরাক্রান্ত গরুকে প্রাথমিকভাবে প্যারাসিটামল খাওয়ালে সুস্থ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ১৫০ কেজি ওজনের একটি গরুর জন্য একটি প্যারাসিটামল ট্যাবলেট দিতে হবে। বড় আকৃতির গরুকে খাওয়াতে হবে দুটি প্যারাসিটামল। তবে প্রাথমিকভাবে সুস্থ হলেও পরে হাটে দায়িত্বরত প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বা নিকটস্থ ভেটেরিনারি চিকিৎসককে দেখাতে হবে। তাহলে প্রচণ্ড গরমে যেকোনো সময় কোরবানির জন্য আনা প্রাণীটি আবারও অসুস্থ হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
Theme Created By ThemesDealer.Com